কামাখ্যাগুড়িতে দেড় দশকেও মার্কেট কমপ্লেক্স চালু হয়নি

গৌতম সরকার, কামাখ্যাগুড়ি : দেড় দশক আগে কামাখ্যাগুড়ি বাজারে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি হলেও আজও তা চালু হয়নি। অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের উদ্যোগে সেই সময় মার্কেট কমপ্লেক্সটি তৈরি হয়েছিল। মার্কেট কমপ্লেক্সের স্টলগুলির ঝাঁপ বন্ধ হয়ে রয়েছে তারপর থেকে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে তা বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি বলে অভিযোগ। এদিকে, আলিপুরদুয়ার নতুন জেলা গঠন পাঁচ বছর অতিক্রম করেছে। ওই কমপ্লেক্সের স্টলগুলি বণ্টনের বিষয়ে আলিপুরদুযার জেলাপরিষদও উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাঁকা পড়ে থাকায় স্টলগুলি নষ্ট হতে বসেছে। মার্কেট কমপ্লেক্সের ব্যাপারে জেলাপরিষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবসায়ীরা। উদাসীনতার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীরা চাইছেন, পড়ে থাকা স্টলগুলি বণ্টনে উদ্যোগী হোক প্রশাসন।

কামাখ্যাগুড়ি বাজারের ধানহাটিতে রয়েছে দ্বিতল ওই মার্কেট কমপ্লেক্সটি। ফাঁকা থাকা নীচের তলায় প্রতিদিন খুচরো সবজি ব্যবসায়ীরা বসেন। আর রবিবার ও বুধবার হাটের দিনে ধানের পাইকারি বাজার বসে সেখানে। দোতালায় কম করেও ১২টি স্টল রয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই স্টলগুলি বণ্টনই হয়নি। ফাঁকা পড়ে থাকায় স্টলগুলির অবস্থাও খারাপ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। ফের সংস্কার করা না হলে সেগুলি ব্যবহার করা যাবে না। কয়েক বছর আগে ঝড়ে কমপ্লেক্সের টিনের চাল উড়ে যায়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী সমিতি ওই কমপ্লেক্সে টিন লাগানোর ব্যবস্থা করে।

- Advertisement -

কামাখ্যাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সহসম্পাদক উজ্জ্বল পাল বলেন, স্টলগুলি বণ্টনের বিষয়টি বারবার জেলাপরিষদে জানানো হয়েছে। তারা আজ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়নি। মার্কেট কমপ্লেক্সের স্টলগুলি বণ্টন না হওয়ায় জন্য জেলাপরিষদের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ব্যবসা করতে চেয়ে অনেক যুবক বাজারে ঘরের ব্যবস্থা করতে পারেন না। অথচ বাজারে স্টল পড়ে রয়েছে। স্থানীয ব্যবসায়ী অমৃত দাস, রাজীব পাল বলেন, স্টলগুলি দিয়ে দিলে অনেক যুবক ব্যবসায়ী জীবন শুরু করতে পারতেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে সেগুলি ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। আমরা চাই দ্রুত স্টল বণ্টনের ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।

জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বীরেন বর্মন বলেন, ব্যবসায়ীদের বণ্টন করার জন্যই স্টলগুলি করা হয়েছিল। বেশ কয়েক ধাপে কাজ সমাপ্ত হয়। স্টলগুলি বণ্টনের প্রক্রিয়া চলছিল। তারই মাঝে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় কাজ শেষ হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের কামাখ্যাগুড়ি-২ অঞ্চল চেয়ারম্যান অনিরুদ্ধ বিশ্বাস বলেন, ওই মার্কেট কমপ্লেক্সের কাজ অনেকটাই বাকি রয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্টল বণ্টন করতে জেলাপরিষদ ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করেছে। আলিপুরদুযার জেলাপরিষদের সভাধিপতি শীলা দাস সরকার বলেন, বিষযটি নিয়ে ইতিমধ্যেই পূর্ত বিভাগের স্থায়ী সমিতিতে আলোচনা হয়েছে। এই বিষয়ে কাজও শুরু হয়েছে। শীঘ্রই স্টলগুলি বণ্টনের ব্যবস্থা করা হবে।