দশ বছরেও মার্কেট কমপ্লেক্স চালু হয়নি

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : সরকারি আধিকারিকদের ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে গত এক বছর ধরে নকশালবাড়ি মার্কেট কমপ্লেক্সের টেন্ডার ঝুলে রয়েছে। গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে নকশালবাড়ি মার্কেট কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে।

আগামী ৭ নভেম্বর শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ সহ পঞ্চায়েত বোর্ডগুলির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তা সত্ত্বেও মার্কেট কমপ্লেক্স চালুর বিষয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ সূত্রের খবর, গত ৩ সেপ্টেম্বর নকশালবাড়ি মার্কেট কমপ্লেক্সের টেন্ডার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারি আধিকারিকদের পারস্পরিক অসহযোগিতার কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপসকুমার সরকার বলেন, প্রশাসনিক আধিকারিকদের টালবাহানার কারণে নকশালবাড়ি মার্কেট কমপ্লেক্সের টেন্ডার করতে দেরি হল। তবে পুজোর ছুটির আগেই অর্থ দপ্তরের মিটিংয়ে ওয়ার্কঅর্ডার দিতে বলেছি। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মার্কেট কমপ্লেক্স চালু হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

- Advertisement -

২০০৮ সালে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের টাকায় নকশালবাড়ি পানিঘাটা মোড় এলাকায় কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনটি তৈরি করা হয়। ২০১৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলে তৎকালীন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী গৌতম দেব সেটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু ইদানীং কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। ভবনের নীচতলায় কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকান শুরু করলেও উপরের ঘরগুলি ফাঁকা পড়ে নষ্ট হচ্ছে। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী আবার ভবনের নীচে জায়গা দখল করে টিনের শেড তৈরি করে ফেলেছেন। রাতে একশ্রেণির মানুষ মার্কেট কমপ্লেক্সে শৌচকর্ম সারছেন বলেও অভিযোগ। এরফলে এলাকার আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে যে উদ্দেশ্যে কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছিল তা তো হচ্ছেই না, উলটে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, ভবনের দেওয়াল ও ছাদের বেশ কয়েক জায়গায় ভূমিকম্পের ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে। শুনেছিলাম শীঘ্রই মার্কেট কমপ্লেক্সটি চালু হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা হল না। এ বিষয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অ্যাডিশনাল এগজিকিউটিভ অফিসার প্রেমকুমার বরদেওয়া বলেন, পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে আছি। নভেম্বরে অফিস খুললে নকশালবাড়ি মার্কেট কমপ্লেক্সের বিষয়ে বলতে পারব। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার সুপ্রিয় মণ্ডল অবশ্য বলেন, আমরা পুজোর পরই নকশালবাড়ি মার্কেট কমপ্লেক্সটি চালু করব।