শিলান্যাসের ৪ বছর পরেও মার্কেট কমপ্লেক্সের কাজ শুরু হয়নি

279

খোকন সাহা, বাগডোগরা : শিলান্যাস হয়েছিল চার বছর আগে। কিন্তু তারপর বাগডোগরায় ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মাণে একটি ইট গাঁথা হয়নি। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিষযটি ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছু নয়।  বাগডোগরায় ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ করে এশিয়ান হাইওয়ে টু মহাসড়ক নির্মাণ করার সময় রাস্তার দুপাশের ব্যবসাযীরা উচ্ছেদ হন। তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য বাগডোগরা এযারপোর্ট মোড়ের কাছে আয়াপ্পা মন্দিরের পাশে সরকারি খাসজমিতে মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ছিলেন গৌতম দেব। ২০১৫ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে মন্ত্রী এখানে এসে মার্কেট কমপ্লেক্সের শিলান্যাস করেন। সেসময় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা তাঁদের উচ্ছেদ হওয়ার দুঃখ ভুলে ভবিষ্যতে স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নে হাততালি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পর আর কিছুই হয়নি। এর পরে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী হওযার পর গত বছর ২৮ অগাস্ট বাগডোগরায় এসে প্রস্তাবিত মার্কেটের জমি পরিদর্শন করে জানিয়েছিলেন এখানে উচ্ছেদ হওযা ব্যবসায়ীদের শুধুমাত্র মার্কেট কমপ্লেক্স নয়, এখানে স্টার বিশ্ব বাংলা মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে। খরচ পড়বে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে এই কাজ করা হবে। এখানকার মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে কমপ্লেক্সের প্রথম ও দ্বিতীয তলে জাতীয় সড়কের পাশে যেসব বাবসাযী উচ্ছেদ হয়েছেন তাঁদের পুনর্বাসন দেওযা হবে।

বিশ্ব বাংলার স্টল থাকবে, স্টলে থাকবে বাংলার ঐতিহ্যশালী তাঁতের শাড়ি ও অন্যান্য সামগ্রী, থাকবে ফুডপার্ক, তিনতলায় থাকবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গা। ওই জায়গা ন্যূনতম ভাড়ায় সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। চতুর্থ তলায় হবে অডিটোরিয়াম। সেখানে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা থাকবে। প্রস্তাবিত কমপ্লেক্সের নকশা অনুমোদনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে বলে রবীন্দ্রনাথবাবু সেদিন জানিয়েছিলেন। দপ্তরের পক্ষ থেকে সেখানে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল। এখন সেই প্রস্তাবের অগ্রগতি কী তা বাগডোগরার মানুষ জানতে চাইছেন। তাঁরা জানতে চাইছেন টাকা বরাদ্দ হয়েছিল? আরও কি একটা পঞ্চায়েত নির্বাচন পার করতে হবে?

- Advertisement -

এদিকে, যে সরকারি জমিতে মার্কেট কমপ্লেক্স হওয়ার কথা সেই জমি ধীরে ধীরে জমি মাফিয়ারা এখন বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী বলেন, ওই জমিটা পূর্ত বিভাগের কাছ থেকে এসজেডিএ আগেই নিয়েছে। আমি এসজেডিএ কর্তপক্ষকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, হয় আমদের পুরো জমিটা দিয়ে দেওয়া হোক। আমরা কাজটা করি, তা না হলে অর্ধেক কাজ তোমরা করো অর্ধেক কাজ আমরা করি। কিন্তু ওঁরা এখনও পর্যন্ত আমাদের কিছু জানায়নি। বাগডোগরা ব্যবসাযী সমিতির সাধারণ সম্পদক প্রবীর রায় বলেন, ওই কাজটা আটকে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা করার।