চারেরবাড়ি বাজারে আবর্জনা ও দুর্গন্ধে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ

324

মযনাগুড়ি : বাজারে শৌচাগার নেই। যত্রতত্র শৌচকর্মের ফলে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হযে উঠেছেন চারেরবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বাজারের আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। বাজারের আনাচকানাচে আবর্জনা ফেলা হয। আবর্জনা এবং শৌচকর্মের দুর্গন্ধ সহ্য করেই ব্যবসা করতে হচ্ছে চারেরবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি বাজারের নিকাশি ব্যবস্থারও হাল খারাপ। তাই আগামী বর্ষায় প্রচণ্ড দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী সহ এলাকাবাসী।

ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের চারেরবাড়ি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বাজার এটি। অবিলম্বে বাজার উন্নয়নের দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। মযনাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হাটের উন্নতি সহ শৌচাগার নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

- Advertisement -

সপ্তাহে দুদিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার হাট বসে চারেরবাড়ি বাজারে। পার্শ্ববর্তী ধওলাগুড়ি, বেতগাড়া, আমগুড়ি, টেকাটুলির প্রচুর মানুষ এই বাজারের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাজারের উন্নতির বিষয়ে উদাসীন প্রশাসন। শৌচাগার, হাট শেড, নিকাশিনালা, কিছুই নেই সেখানে। প্লাস্টিক, সবজির খোসা, মাছ ও মাংসের উচ্ছিষ্ট থেকে শুরু করে সমস্ত ধরনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বাজারের যত্রতত্র। শৌচাগার না থাকায় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বাজারে আসা মানুষজন বাজারের পাশেই শৌচকর্ম করেন। এক ব্যবসায়ী ঝন্টু সরকার বলেন, আমার ‘দোকানের পিছনে আবর্জনা এবং শৌচকর্মের ফলে দুর্গন্ধে ব্যবসা করতে পারি না। দুর্গন্ধে দোকানে খরিদ্দাররা আসতে চান না।’ আর এক ব্যবসায়ী ভাদুরু রায় বলেন, ‘বহু প্রাচীন এই হাট-বাজারের কোনও উন্নতি হয়নি। বাজারের উন্নতিতে সরকার উদাসীন।’

চারেরবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রানাপ্রতাপ বিশ্বাস বলেন, ‘হাটবাজারে অনেক মানুষ আসেন এবং যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলেন, মূত্রত্যাগ করেন। আমাদের সমিতির মিটিংয়ে ব্যবসাযীরা বারবার অভিযোগ করেন যে, দুর্গন্ধের জন্য ব্যবসা করতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া এই দুর্গন্ধের ফলে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই ব্যবসাযী সমিতির পক্ষ থেকে একটি শৌচাগার এবং ডাম্পিং গ্রাউন্ডের দাবি করা হয়েছে।’ স্থানীয পঞ্চায়েত সদস্যা আলপনা সরকার বলেন, ‘বাজারে অনেক সমস্যা রয়েছে জানি। আমরা বিষযটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’ ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিবম রায়বসুনিয়া বলেন, আবর্জনা ফেলতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার মতো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। শৌচাগারের জন্য সেখানকার ব্যবসাযী সমিতি বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি লিখিতভাবে আবেদন করলে আমরা বিষয়টি দেখব। কেবলমাত্র চারেরবাড়ি বাজার নয, সমস্ত বাজারের উন্নতি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও করা হবে।’

তথ্য ও ছবি- জগন্নাথ রায়