করোনা পরিস্থিতির জের, ফের চালু দু’দশক আগে বন্ধ হওয়া হাট

518

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: করোনা পরিস্থিতির জেরে পালটাচ্ছে গ্রাম বাংলার চালচিত্র! পালটে যাচ্ছে জীবন ও জীবিকার অভিমুখ। আর করোনার জেরে তৈরি হওয়া পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খুলে গিয়েছে প্রায় দুই দশক আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি গ্রামীণ হাট।

আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের মধ্য দেওগাঁওয়ে কাশিয়াবাড়িতে প্রায় কুড়ি বছর পর বুধবার থেকে ফের বসতে শুরু করেছে হাট। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি সপ্তাহে বুধবার ও রবিবার কাশিয়াবাড়িতে সাপ্তাহিক হাট বসবে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে সেখানে বিকেলে শাক-সবজির দোকান বসবে। বহু বছর পর কাশিয়াবাড়িতে হাট বসায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে উৎসাহিত এলাকাবাসীও। গতকালও অনেকেই হাটে গিয়েছিলেন।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাস জমিতে প্রায় চার দশক আগে ওই হাট চালু করেন তৎকালীন সম্পন্ন ব্যক্তি কাজি বাহালউদ্দিন মিয়াঁ। তখনও রবিবার ও বুধবার সাপ্তাহিক হাট বসত। পরে সেটি ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির নিয়ন্ত্রণে যায়। তবে ২০-২৫ বছর আগে সেটি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।

করোনা পরিস্থিতির জের, ফের চালু দু’দশক আগে বন্ধ হওয়া হাট| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

করোনা পরিস্থিতির জেরে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া দেওগাঁওয়ের অনেক বাসিন্দাই সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু দেওগাঁওয়ে রুজির সংস্থান করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন অনেকেই। বাধ্য হয়ে পথেঘাটে কেউ সবজি বিক্রি করতে শুরু করেন। কেউ আবার মাছের দোকান দিয়ে বসেন। এমনকি, সংসারে দু’পয়সা বাড়তি যোগান দিতে অনেক গৃহবধূও দোকান খুলে বসেন। কেউ বা বিক্রি করতে শুরু করেন তেলেভাজা। গ্রামের আনাচে কানাচে গত পাঁচ মাসে এমন অনেক দোকান গজিয়ে উঠতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছিল অন্য জায়গায়। একদিকে, কারও কারও দোকানের সব মালপত্র বিক্রি হয়ে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, কেউ কেউ আবার ক্রে‌তাই পাচ্ছিলেন না। তাই গ্রামেরই কয়েকজনের মাথায় আসে হাট চালুর কথা। দেওগাঁও নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক আবিদ হোসেন বলেন, ‘হাটটি পুনরায় চালু হওয়ায় বহুমুখী লাভ হল। হাটে শুধু সবজি কিনতেই নয়, বাড়িতে উৎপাদিত পণ্য বিক্রিও করতে পারবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।’

এদিকে, বন্ধ হয়ে যাওয়া হাট ফের চালু হওয়ায় আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই। বাবলু ইসলাম নামে ভিনরাজ্য ফেরত এক রাজমিস্ত্রী বলেন, ‘আমি আজ থেকে আমার ছেলেকে সবজির দোকান দিয়ে হাটে বসালাম। এতে ও করে খেতে পারবে। এখন তো কেরল, ভুটানে কাজে যাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়েছে।’ গালামালের দোকানের আকতার হোসেন বলেন, ‘এবার থেকে হাটেও দোকান বসাতে পারব। এতে দু’পয়সা বাড়তি রোজগার হবে।’ জলিলুদ্দিন মিয়াঁ, বাবুল ইসলাম, জসিরুদ্দিন মিয়াঁর মতো ভিনরাজ্য ফেরত অনেক শ্রমিকই এদিন হাটে সবজির দোকান দেন। জলিলুদ্দিন মিয়াঁ বলেন, ‘হাট চালু হওয়ায় ব্যবসার জন্য নতুন একটা জায়গা পেলাম। এতে বিরাট উপকার হল।’ এই বিষয়ে দেওগাঁও গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান রহিফুল আলম বলেন, ‘গ্রামের বাসিন্দারা আলোচনা করে হাটটি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে এলাকাবাসীর লাভই হবে। হাটটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আমরা ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব। হাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’