রাস্তার কারণে ভাঙছে বিয়ে, ক্ষোভ রহমতপুরে

92

রায়গঞ্জ: ভোট আসে ভোট যায় তবুও রাস্তার কোনও উন্নতি নেই। ভোটের সময় নেতা মন্ত্রীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও পড়ে সব ভুলে যান। গ্রামে ঢোকার রাস্তার বেহাল অবস্থা। কোনও গাড়ি সেই রাস্তা দিয়ে গ্রামে ঢুকতে পারে না। যার ফলে গ্রামের রাবেয়ার মত মেয়েদের বিয়েও ভেঙে যাচ্ছে। পাত্রের বাড়ির লোকজন ভাঙা রাস্তা দিয়ে গ্রামেও আসতে চান না। দিন কয়েক বাদে বিধানসভার ভোট। ফের সব করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন নেতারা। কিন্তু বিহার সীমানার নদী ঘেরা রহমতপুর দ্বীপ নগরের বাসিন্দারা জানেন কিচ্ছু বদলাবে না। তাই ভোটে কোনও তাপ-উত্তাপ নেই। সাবেদা খাতুনের মতো মেয়ের বিয়ে দিতে না পেরে তাই হতাশ হজরত আলিরা। ভোট নিয়ে মোটেই আগ্রহ নেই গৌরী পঞ্চায়েতের ওই পরিবারগুলির। কুলিক আর নাগর নদীর জলপ্রবাহ রায়গঞ্জের বিশহারা গ্ৰামে মহানন্দায় মিশেছে।

ওই পাড়ে বিধানসভা কেন্দ্রের দ্বীপনগর রহমতপুর। নেই কোনও বাজার ঘাট। সবজি বাজার করতে ছুটতে হয় বিহারের আবাদপুর। কাছের হাই স্কুল বলতে ১০ কিলোমিটার দূরের হাতিয়া হাই স্কুল। কিংবা ইটাহারের বাড়িওলঘাট হাইস্কুল। গ্রামে একটা প্রাথমিক স্কুল রয়েছে কিন্তু শিক্ষকরা সপ্তাহে দুদিন আসেন। ফলে এলাকার শিশুদের পড়াশোনার গরজটাই উবে গিয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র পৌঁছোতে পরপর দুটো নদীর উপর বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো পার হতে হয়। চিকিৎসার জন্য প্রায় ২২ কিলোমিটার পথ ঠেঙিয়ে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতাল যেতে হয়। নদীর পাড়ে কোনও গাড়ি, মোটরবাইক একমাত্র ভরসা। বেঁচে থাকার জন্য রাস্তা চাই, স্কুল চাই, যাতায়াতের পথ চাই, ভোট চাই না, স্লোগান তুলেছে রহমতপুরের মানুষ। শুধু অনুন্নয়নের জন্য রাবেয়ার মতো অনেকের বিয়ে কেন বারবার ভেঙে যাচ্ছে, এবারের ভোটে নেতাদের কাছে সেই প্রশ্ন করতে চাইছেন এখানকার মানুষ।

- Advertisement -