বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে রূপশ্রীর আবেদন বধূর

279

তনয় মিশ্র, মোথাবাড়ি : বিয়ে হয়ে গিয়েছে কয়েক বছর আগেই। কিন্তু তাতে কী! রূপশ্রী প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা তো আর ছাড়া যায় না। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। রীতিমতো বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে জাল নথি দিয়ে রূপশ্রীর জন্য ব্লক দপ্তরে অবেদন করেন এক দম্পতি। কার্ডে বিয়ের তারিখ ছিল ১৮ জুলাই। বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বিয়ে দিন ওই গ্রামে যান তিন সদস্যের এক তদন্তকারী দল। কিন্তু পাত্রীর বাড়িতে গিয়ে চক্ষুচড়কগাছ হওয়ার জোগাড় আধিকারিকদের। কোথায় বিয়ের আয়োজন? সারা বাড়িই ফাঁকা! নেই কোনও লোকজন কিংবা আত্মীয়স্বজন। অবশ্য তদন্তকারী অফিসারদের দেখেই ঢালাও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করতে চায় মেয়ে পরিবার।

কিন্তু এত সহজে চিড়ে ভেজেনি। তদন্তকারী অফিসারেরা মেয়েকে দেখতে চেয়ে ঠায় বসে থাকেন। আর কোনও উপায় না দেখে অবশেষে দীর্ঘক্ষণ পর ওই মহিলা বাড়িতে আসেন। জেরায় হাতেনাতে ওই গৃহবধূকে ধরে ফেলেন তাঁরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের বাঙ্গীটোলা পঞ্চায়েতের সাদিপুর বারকাত্তাবাদ গ্রামে।

- Advertisement -

প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই গ্রামের বাসিন্দা সামাইয়া পারভিনের সঙ্গে কয়েক বছর আগেই মোথাবাড়ি পঞ্চায়েতের শ্রীপুর খানপাড়ার বাসিন্দা জুবের খানের বিয়ে হয়। ওই দম্পতি রূপশ্রী প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার লোভে জাল নথি পেশ করে আবেদন জানায়। রীতিমতো বিয়ের কার্ড ছাপান তারা। ১৮ জুলাই সামাইয়ার সঙ্গে জুবেরের বিয়ে হবে বলে কার্ডে লেখা ছিল। সেই মতো ব্লক ও পঞ্চায়েত থেকে তিনজন অফিসার তদন্ত করতে তথাকথিত পাত্রীর বাড়ি যান সোমবার। অফিসাররা দেখেন বিয়ের কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি। অথচ বাড়ির লোকেরা প্রথমেই বলে সামাইয়ার সেদিন বিয়ে হবে। বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারেন তদন্তকারী অফিসারেরা। তদন্তকারী অফিসারদের জেরায় সামাইয়া স্বীকার করে নেন, তাঁদের বিয়ে বহুদিন আগেই হয়ে গিয়েছে। আজ তাঁদের বিয়ে নেই। স্থানীয় এক দালালের পরামর্শ মেনে তাঁরা এই কাজ করেছেন। এরপরেই তদন্তকারী অফিসাররা গোটা বিষয়টি বিডিওকে ফোনে জানান।

সম্প্রতি কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের পঞ্চানন্দপুরে দুই গৃহবধূর বিরুদ্ধে জাল নথি পেশ করে রূপশ্রীর ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ব্লক প্রশাসন এই ঘটনার তদন্তে নামলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পরে। তদন্তকারী অফিসাররা এই ঘটনায় চেনো বিবি ও সোনা বিবি নামে দুই গৃহবধূকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তদন্তে দেখা যায় ওই দুই গৃহবধূ রূপশ্রীর জন্য যে নথি জমা দিয়েছিলেন, তার সবটাই জাল। তদন্তের পর অভিযুক্ত দুই গৃহবধূ নিজেদের দোষ স্বীকার করে ২৫ হাজার টাকা সরকারের কাছে ফেরত দেয়। এরপরেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। জেলা শাসক বিডিওদের নির্দেশ দেন আগামীতে রূপশ্রী প্রকল্পের প্রত্যেকটি আবেদন যেন সঠিকভাবে যাচাই করে তদন্ত করা হয়। এরপরেই ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েতে দুইজন করে রূপশ্রী প্রকল্পের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়।

মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, গোটা বিষয়টি জানার পরে আমি ব্লক ও জেলা প্রশাসনকে সঠিকভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। আগামীদিনে এই ধরনের অবৈধ কাজ আটকাতে প্রশাসনকে সচেষ্ট থাকতে বলা হয়েছে। কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ সেনগুপ্ত  বলেন, ব্লকে বড় ধরনের একটি দালালচক্র আছে। তাই এখন থেকে আমরা প্রতিটি আবেদনপত্র যাচাই করে দেখে নিচ্ছি। সম্প্রতি বাঙ্গীটোলা পঞ্চায়েছের এক গৃহবধূ বিয়ের কার্ড সহ একাধিক নথি পেশ করে রূপশ্রীর টাকা আবেদন করেছিলেন। আমাদের তদন্তকারী অফিসাররা তদন্তে গিয়ে দেখেন সম্পূর্ণ  বিষয়টিই ভুয়ো। আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও গত এক বছরে রূপশ্রী প্রকল্পে যত জন টাকা পেয়েছেন, তাঁদের নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।