শহিদ স্বামীদের স্মৃতি আঁকড়ে সন্তানদের মানুষ করছেন সিমলা-সরিতা

359

নাগরাকাটা : বাবার স্বপ্ন ছেলেমেয়ে পূরণ করবে, এমন স্বপ্নে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করছেন দুজনেই। ঘর-গেরস্থালি থেকে বাইরের ঝড়-ঝাপটা সামলাতে হয় একা হাতেই। পুজোর সময ছুটি নিয়ে গৃহকর্তারা বাড়ি এলে জমিয়ে রাখা হরেক কাজ হয়ে যাবে, সেই সম্ভাবনার অকাল সমাধি হয়েছে কবেই।  নাগরাকাটার সুখানি বস্তির কান্নাচাপা দুই শহিদ ঘরণী সিমলা আর সরিতা যেন আক্ষরিক অর্থেই দশভুজা।

সিমলার স্বামী মহাদেব মিঞ্জ শহিদ হন ২০১২-র ১৯ সেপ্টেম্বর। আর গোপালকৃষ্ণ ছেত্রীর বুক এফোঁড় ওফোঁড় হযে যাওয়া কালাশনিকভের গুলি সরিতার জীবনে বিপর্যয় বয়ে আনে ২০০৯ এর ১৫ ফেব্রুযারির এক বিকেলে। দুজনেই মাওবাদী আক্রমণের বলি। মহাদেবের ঘটনাটি ঘটে ছত্রিশগড়ের সুকমা জেলার গোর্খাতে। সিআরপিএফ জওয়ান মহাদেব সেসময় বাহিনীর কপ্টার নামার একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁরও বুক ঝাঁঝরা করে দেয় মাওবাদীদের অতর্কিত গুলি। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিযে যান তিনি। ইএফআর জওয়ান গোপালকৃষ্ণের ঘটনাটি ঘটে এরাজ্যের শিলদা ক্যাম্পে। সেন্ট্রির দায়িত্বে থাকা গোপালও মাওবাদীদের সঙ্গে লড়াই চালিয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত।

- Advertisement -

দুই শহিদেরই বাড়ি একই পাড়ায়। দুজনেই ফি পুজোয় বাড়িতে সময কাটাতে ভালবাসতেন। স্ত্রী-সন্তানদের গল্প শোনাতেন দেশের হয়ে কাজ করার। দুজনেই সন্তানদের পড়াশোনা শিখিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁদের কেউই আর নেই। তাই পুজোর ছুটি আর কোনো আলোড়ন তোলে না সিমলা-সরিতার জীবনে। তাঁদের এখন ধ্যান জ্ঞান ছেলেমেয়েই।

সরিতার দুই কন্যা ও এক পুত্র। বড় মেয়ে প্রিযাঙ্কা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। মেজো পল্লবী দ্বাদশের গণ্ডি টপকে এবারে কলেজে ভরতি হবে। ছোটো ছেলে প্রশান্ত নবম শ্রেণির পড়ুযা। সরিত বলেন, ‘দশ বছর হল ওঁকে ছাড়াই পুজো কাটছে। তার আগে ২৫ বছরের কর্মজীবনে একটা পুজোতেও বাড়ি ফেরেননি এমনটা হয়নি। ছেলেমেয়েকে লেখা পড়া শিখিযে মানুষ করার স্বপ্ন দেখতেন। সেটাই পূরণ করার চেষ্টা চালিযে যাচ্ছি।’

সিমলা-র দুই পুত্র। বড় ছেলে কুনাল এখন কলকাতার একটি কলেজে দ্বিতীয বর্ষের পড়ুযা। ছোট নিশান্ত একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। সিমলা বলেন, ‘বাহিনী সব সমযে আমাদের পাশে রয়েছে। নিয়মিত খোঁজখবরও নেয়। তবে অভিভাবক ছাড়া জীবনের যুদ্ধ যে কতটা কঠিন তা মহাদেব থাকতে কখনও বুঝিনি।’

ছবি : মহাদেব মিঞ্জের সঙ্গে সিমলার অ্যালবাম ফটো।

তথ্য : শুভজিৎ দত্ত