কথা রাখেনি তৃণমূল, মৃত জওয়ানের মূর্তি বসাবেন মা

290

মাদারিহাট :  কেউ কথা রাখে না! গত বছর ১৪ জানুয়ারি কাশ্মীরে সীমান্ত রক্ষার কাজ করতে গিয়ে তুষার ঝড়ে মৃত্যু হয়েছিল মাদারিহাটের মুজনাই চা বাগানের বিএসএফ জওয়ান গঙ্গা বরার। তাঁর দেহ আসার পর মালা দেওয়ার ধুম পড়ে গিয়েছিল। সব দলের তরফ থেকেই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। সবাইকে ছাপিয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মুজনাই চা বাগানে সরকারি অনুষ্ঠানে এসে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টর তথা তৃণমূল নেতা মোহন শর্মা ঘোষণা করেছিলেন, গঙ্গা বরার স্মৃতিতে বেদি তৈরি করে মূর্তি বসানো হবে। ওই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকও। কিন্তু অভিযোগ, চার মাস কেটে গেলেও গঙ্গার মূর্তি বসানোর কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁর মা সোহানি বরা নিজেই ছেলের মূর্তি বসাতে চলেছেন। সোহানিদেবী বলেন, আগামী ১৪ জানুয়ারি গঙ্গার জন্মদিন। ওইদিন ছেলের মূর্তির উন্মোচন করে মাল্যদান সহ একাধিক অনুষ্ঠান করব। প্রতিশ্রুতি দিলেও ছেলের মূর্তি তৈরির ব্যাপারে তৃণমূলের কোনও উদ্যোগ নেই। সেই জন্য নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে মূর্তি তৈরি করছি। যদিও তৃণমূলের দাবি, গঙ্গার বাড়ির লোকজন মূর্তি নিজেরাই গড়বেন বলায় তারা পিছিয়ে এসেছে। ছেলের মৃত্যুর পর প্রায় একবছর কেটে গেলেও মৃত বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে কোনও নেতার পা পড়েনি বলে আক্ষেপ গঙ্গার পরিবারের।

গত বছর জানুয়ারি মাসের ঠান্ডায় কাশ্মীরের নওগাম সেক্টরে সঙ্গী তিন জওয়ানের সঙ্গে সীমান্ত রক্ষার কাজ করছিলেন গঙ্গা। আচমকা তুষার ঝড়ের কবলে পড়েন তাঁরা। গঙ্গা বরফের অনেকটা নীচে চলে যান। বাকি সঙ্গীদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মাদারিহাটের এই যুবককে মৃত অবস্থাতেই উদ্ধার করা হয়। গঙ্গার দেহ মুজনাই চা বাগানে নিয়ে এলে দেশভক্তির বন্যা বয়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর মূর্তি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ ব্যাপারে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টর মোহন শর্মা বলেন, মূর্তি তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু গঙ্গার বাড়ির লোকজন এসে জানান, মূর্তি তাঁরাই তৈরি করবেন। বদলে অন্য কিছু করার আবেদন জানিয়ে যান। সেইজন্যই আমরা মূর্তি তৈরি থেকে সরে আসি। পরিবর্তে ওখানে লাইট লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। যদিও এই ব্যাপারে গঙ্গার মা সোহানি বলেন, ঘোষণা করার অনেক দিন বাদেও কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয় এক তৃণমূলের নেতাকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। ওই নেতা আবার মাদারিহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে জিজ্ঞেস করেন। মাদারিহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জানিয়ে দেন, ছেলের মূর্তি তৈরির জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই। এরপরই আমরা নিজেরাই ছেলের মূর্তি তৈরি করছি।  যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে মাদারিহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মামণি বসুমাতা শৈব বলেন, আমরা ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই মূর্তি তৈরি করব বলেছিলাম। কিন্তু গঙ্গার বাড়ির লোকজন এসে জানান, ওই মূর্তি তাঁরাই তৈরি করবেন। তাই আমরা আর মূর্তি তৈরির দিকে যাইনি।

- Advertisement -

কালচিনিতে শহিদ বিপুল রায়ের বাড়িতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর সহ রাজ্যের একাধিক নেতা-মন্ত্রীরা ছুটে গিয়েছেন। কিন্তু সীমান্ত রক্ষার কাজ করতে গিয়ে মৃত গঙ্গা বরার বাড়িতে কোনও ভিআইপির পা পড়েনি বলে অভিযোগ পরিবারের। পরিবার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মূর্তি তৈরির কাজ প্রায় শেষ। আগামী ১৪ জানুয়ারি বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মূর্তির উন্মোচন করা হবে। গঙ্গা বরার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মুজনাই চা বাগানের বাঙ্গাবাড়ি ডিভিশনে একটি ক্লাব তৈরি হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে বীর গঙ্গা বরা আদিবাসী ক্লাব।