শহিদ দিবসে আসেন তবে সারাবছর কেউ খোঁজ রাখেন না, হতাশা তিনবিঘার শহিদ পরিবারে

200

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: শহিদ দিবস এলেই মনে পড়ে শহিদ পরিবারগুলির কথা। সারাবছর তাদের তেমন কোনও খোঁজখবরই রাখেননা কেউ। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কুচলিবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার মানুষ। হতাশ তিনবিঘা আন্দোলনের শহিদ পরিবারের আত্মীয় পরিজনেরাও। তাঁদের বক্তব্য, খোঁজখবর রাখাতো দূরের কথা সামান্য মর্যাদাটুকুও মেলেনা। শহিদ বেদিগুলিও বছরের অধিকাংশ সময় আগাছায় ছেয়ে থাকে। আগামী ২৬ জুন আবারও আসছে শহীদ দিবস উদযাপনের দিনটি। যা নিয়ে ক্ষোভ অনেকেরই। কারণ এই দিনে প্রিয়জন হারানোর বেদনায় তাদের মন কেঁদে ওঠে। তিনবিঘা আন্দোলনের প্রথম শহীদ সুধীর রায়ের পরিবারের অবস্থাও বিশেষ ভালো নয়। তাঁর স্ত্রী বাসন্তী রায় বলেন, দেশের মাটি রক্ষা করতে গিয়ে তার প্রিয়জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তার পর থেকেই বহু কষ্টে তাকে সংসারের হাল সামলাতে হয়েছে। কষ্ট হলেও দেশের কথা ভেবে স্বামীর জন্য তার গর্ববোধ হয়। কিন্তু সারাবছর যথাযোগ্য মর্যাদাটুকুও যখন মেলেনা তখন খুব মন খারাপ হয়। তাই শহিদ দিবসের দিন যত ঘনিয়ে আসে যন্ত্রণায় তার বুক তত ছটফট করে। এমনই জানালেন বাসন্তীদেবী।

এদিকে এবারও তিনবিঘায় শহীদ দিবসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব। প্রতিবছরই অবশ্য তাদের কেন্দ্র ও রাজ্য নেতাদের উপস্থিতিতে তিনবিঘা সীমান্তে শহীদ দিবস পালন করেন তাঁরা। এবার লকডাউনের কারণে সেই অনুষ্ঠানের আয়োজনে কিছুটা খামতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির মেখলিগঞ্জ দক্ষিণ মন্ডল সভাপতি দধিরাম রায় এপ্রসঙ্গে বলেন, তিনবিঘার শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবার জন্য এবারও তারা দলের উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শহিদ পরিবারগুলির বিষয়েও তারা খোঁজখবর নেবেন।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, করিডোর কোনোভাবেই বাংলাদেশকে দেওয়া যাবেনা। এই দাবিতে প্রথম থেকেই আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন অপর দুই গ্রামবাসী জিতেন রায় এবং ক্ষিতেন অধিকারিও। এই আন্দোলন করতে গিয়েই ১৯৯২ সালের ২৬ জুন যেদিন তিনবিঘা করিডোর হস্তান্তর করা হয় সেইদিন শহিদ হতে হয় এই দুজনকে। শহিদ সুধীর রায়ের পুত্র ভূপেন রায় বলেন, প্রতিবছর শহিদ দিবসের দিনে দলে দলে লোকজন আসেন। আশ্বাসও দিয়ে যান। কিন্তু সারাবছর তাদের খোঁজ রাখেননা কেউই। চরম আর্থিক সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাদের। তিনবিঘা করিডোরের পাশে থাকা বাবার শহিদ বেদিটাও সংস্কার এবং আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলার কথা বিভিন্ন মহলে জানানোর পরও কাজ হচ্ছেনা। সবমিলিয়ে শহিদ বাবার জন্য মন ভালো নেই।