স্বাস্থ্যসাথী সাথ দিল না, বাড়ি বেচার ভাবনা রাজমিস্ত্রির

392

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া : হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করে চিকিৎসার জন্য একের পর এক নার্সিংহোমের দুয়ারে ঘুরলেন রাজমিস্ত্রি। কিন্তু শিলিগুড়ির কোনও নার্সিংহোমই তাঁকে স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা দিতে রাজি হয়নি। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট থানার অন্তর্গত মধ্য রাঙ্গালিবাজনার ইদ্রিস আলির এমনটাই অভিযোগ। তিনটি নার্সিংহোমে দুদিন চিকিৎসা করানোর জেরে লক্ষাধিক টাকা বিল উঠেছিল বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান।  অবশেষে ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করে নার্সিংহোমের বিল মিটিয়ে ইদ্রিসের দুই ছেলে রশিদুল হক ও ইমাম হোসেন বাবাকে বাড়ি নিয়ে আসেন। ইদ্রিস বর্তমানে শয্যাশায়ী। তবে আত্মীয়স্বজনদের কাছে ধার করে নেওয়া টাকা শোধ করতে তিনি এখন বসতভিটেটুকু বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

পেশায় রাজমিস্ত্রি ইদ্রিসের ভিটেমাটি ছাড়া পাট্টায় পাওয়া এক বিঘারও কম জমি রয়েছে। বড় ছেলেও রাজমিস্ত্রি। ছোট ছেলে যখন যেভাবে পারেন কিছু রোজগারের চেষ্টা করেন। ইদ্রিসের ছোট ছেলে ইমাম হোসেন জানান, ২৫ জানুয়ারি তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়। এরপর বাবাকে নিয়ে তিনি শিলিগুড়ি ছোটেন। সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে ১ ঘণ্টা চিকিৎসার বিল হয় প্রায় ৪ হাজার টাকা। কিন্তু অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা দিতে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করে। এরপর সেবক রোডের আরেকটি ও মাটিগাড়ার একটি নার্সিংহোমে দুদিন চিকিৎসার মোট বিল প্রায় এক লক্ষ টাকা হয়। কিন্তু কোনও নার্সিংহোমই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা দিতে রাজি হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। ইমাম বলেন, বাবার হার্ট অপারেশন করতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এজন্য দুলক্ষ টাকারও বেশি প্রযোজন। ওই তিনটি নার্সিংহোম ছাড়াও আরও তিন-চারটি নার্সিংহোমে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউই পরিষেবা দিতে রাজি হয়নি। তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস কি মিথ্যা? ইদ্রিসের স্ত্রী রৌশনারা বেগম বলেন, আমরা গত বছর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করাই। এবছর দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে শয়েশয়ে লোক ওই কার্ডের জন্য সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাহলে ওই কার্ডের কি কোনও দাম নেই?

- Advertisement -

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা দিতে অস্বীকার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি বীরপাড়ার একটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা দিতে অস্বীকার করার অভিযোগ তুলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ইদ্রিস আলি বলেন, আমি বিছানায় পড়ে আছি। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর তারিখ রয়েছে। শিলিগুড়ি যাওয়ার জন্য গাড়ি রিজার্ভ করার টাকাও জোগাড় করতে পারিনি। নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করার মতো ক্ষমতাও নেই। এ বিষয়ে মাটিগাড়ার সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের দাবি, ওই নার্সিংহোমে এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা দেওয়া শুরু হয়নি। তবে বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সেবক রোডের যে নার্সিংহোমে ইদ্রিস আলির ঘণ্টাখানেক চিকিৎসা করানো হয় সেটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই নার্সিংহোমটি সি-ক্যাটিগোরিভুক্ত। সেখানে হার্ট অপারেশনের মতো বড় ধরনের চিকিৎসা হয় না। তাই সেখানে ইদ্রিশ আলিকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি।