মাস্টার প্ল্যান বিশবাঁও জলে, বন্যা হলে প্লাবিত হওয়াই দস্তুর উত্তর দিনাজপুরে

92

রায়গঞ্জ: বন্যা রোধে উত্তর দিনাজপুর জেলায় মাস্টার প্ল্যান নিয়ে একাধিকবার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই আশির দশকে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির আমল থেকে পরিকল্পনাই চলছে। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ফি বছর বর্ষায় জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যা কবলিত হয়। দুর্গতরা বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নেন ত্রাণ শিবিরে। ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে চাষিরা সর্বস্বান্ত হন। আদৌ কি এই মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হবে? প্রশ্ন তুলেছেন জেলাবাসী। এ প্রসঙ্গে ইটাহারের নব নির্বাচিত বিধায়ক তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সেচ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ মোসারফ হোসেন বলেন, ‘বন্যা রোধে মাস্টার প্ল্যান রয়েছে। তা বাস্তবায়িত হবে। কিছু কাজও চলছে। সেচ দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার এই বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে।‘

কালিয়াগঞ্জে টাঙন, শ্রীমতি, হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জে কুলিক, করণদিঘিতে নাগর, মহানন্দা, ইটাহারে মহানন্দা, সুঁই নদী উত্তর দিনাজপুর জেলায় বন্যার কারণ। এবার প্রাক বর্ষাতেই জেলায় বন্যা পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। ভরা বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। জানা গিয়েছে, বন্যা রোধে তৃণমূল স্তরে কাজ হয়নি। সেচ দপ্তরের কর্তারা জানান, নদীগুলিতে অবৈধ বালি ও পাথর খাদান চলছে। যা নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়। এর জেরে প্লাবন আরও বাড়ে। বন্যা রোধে জেলার সর্বত্র পুকুর খননের ওপর জোর দিতে হবে। পুকুরে জল জমলে নদীতে আর স্রোত বাড়বে না। এছাড়া বন্যা রোধে জেলায় নদী পার সংলগ্ন শাল বা ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানো বন্ধ করতে হবে। দুটি গাছেরই মাটিকে ধরে রাখার ক্ষমতা নেই। ফল জাতীয় গাছ লাগাতে হবে। কোথাও গাছ কাটলে, গোড়া উপড়ে নেওয়া যাবে না। নদীতে বিভিন্ন পার্বণে কলা গাছ, প্লাস্টিক সহ নানা বর্জ্য পদার্থ ফেলা হয়। সেই কাজ থেকে বিরত করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

- Advertisement -