মাথাভাঙা তৃণমূলের বড় মাথাব্যথা

861

গৌরহরি দাস, কোচবিহার: সমস্ত কোন্দল মিটিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেলায় শক্তিশালী হিসাবে গড়ে তোলাই রাজ্য নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যেই বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে সরিয়ে পার্থপ্রতিম রায়কে কোচবিহারের জেলা সভাপতি পদে বসানো হয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে পার্থবাবু গোটা জেলায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। তবে দলীয় সূত্রে খবর, জেলা সভাপতি বহু চেষ্টা করলেও গোটা জেলায় দলের অন্দরে যে পরিমাণ কোন্দল রয়েছে তাতে এই সমস্যা সহজে মেটার নয়। বিশেষ করে মাথাভাঙ্গা মহকুমার কোন্দল তৃণমূলের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোচবিহার জেলায় নয়টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে মাথাভাঙ্গা মহকুমায় মাথাভাঙ্গা ও শীতলকুচি দুটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রটিতে মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের হাজরাহাট-১ এবং ২ এবং পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এছাড়া মাথাভাঙ্গা পুরসভাটিও এই কেন্দ্রে রয়েছে। এই বিধানসভার বিধায়ক বিনয়কৃষ্ণ বর্মন দলের জেলা চেয়ারম্যান পদেও রয়েছেন। কিন্তু গত প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি দলের বিধায়ক পদে থাকলেও তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রে যথেষ্ট পরিমাণে গোষ্ঠীকোন্দল রয়েছে। এই কোন্দলের জেরেই গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি তৃণমূলের থেকে প্রায় ২১ হাজার বেশি ভোট পায় বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই কেন্দ্রের নেতানেত্রীদের মধ্যে কোন্দল কমেনি।

- Advertisement -

বিধায়ক বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের সঙ্গে দলনেত্রী কল্যাণী পোদ্দারের সম্পর্ক কার্যত সাপে-নেউলে। মাথাভাঙ্গা পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান চন্দন দাস বা দলের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি মোজাফর হোসেনের সঙ্গে বিনয়বাবুর সম্পর্ক ভালো নয়। ওয়েবকুপার জেলা সভাপতি সাবলু বর্মনের সঙ্গেও বিনয়বাবুর সম্পর্ক যে খুব সুমধুর তা বলা যাবে না। ফলে এই বিধানসভা কেন্দ্রে দলের এত কোন্দল মিটিয়ে তৃণমূলের পক্ষে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফলাফল করা যথেষ্টই কঠিন কাজ বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এই মহকুমার শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রটি শীতলকুচি ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। হিতেন বর্মন এই কেন্দ্রে প্রায় ১০ বছর ধরে বিধায়ক রয়েছেন। এই কেন্দ্রটিতেও দলে যথেষ্ট গোষ্ঠীকোন্দল রয়েছে। ২০১৬ সালের লোকসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায় এখানে বিজেপি প্রার্থীর থেকে ৮২ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই কেন্দ্রে হারতে হারতে বেঁচে যায়। তারা মাত্র ১,২০০ ভোটের লিড পায়। তা সত্ত্বেও অবশ্য এই কেন্দ্রে গোষ্ঠীকোন্দল কমেনি।

হিতেনবাবুর সঙ্গে ব্লকের দলের অন্যতম নেতা তথা ব্লকের প্রাক্তন সহ সভাপতি সায়ের আলি মিয়াঁর সম্পর্ক কার্যত সাপে-নেউলে। কেন্দ্রটিতে গোষ্ঠীকোন্দল এতটাই যে, গত লোকসভা নির্বাচনের পরও বিধায়ক এখনও ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতে যেতে পারেননি বলে তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর অভিযোগ। সায়ের আলি মিয়াঁ বলেন, সামনেই বিধানসভা ভোট। এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক গত লোকসভা নির্বাচনের পরে এখন পর্যন্ত একদিনও ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতে যাননি। বিষয়টি স্বীকার করে হিতেনবাবু বলেন, ওখানে দলের সাংগঠনিক অবস্থা কিছুটা খারাপ থাকার কারণেই আমি এখনও যেতে পারিনি। তবে শীঘ্রই ওই এলাকায় যাব। কেন্দ্রটিতে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পূর্ণগোবিন্দ সিংহের সঙ্গেও হিতেনবাবুর সম্পর্ক ভালো নয়। সর্বোপরি মহকুমায় হিতেন বর্মন ও বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরেই একটা ঠান্ডা লড়াই রয়েছে। এ বিষয়ে বহুবার চেষ্টা করেও পার্থবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।