দাবিমতো প্রার্থী করেনি বিজেপি, রাজ্যে পৃথকভাবে লড়াইয়ের ভাবনা মতুয়াদের

150

গাজোল: উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ৭৪টি বিধানসভা আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ নমঃশূদ্র সম্প্রদায় এবং মতুয়ারা। এই সমস্ত আসনে ভোটের ফলাফলে নির্ণায়ক শক্তি তাঁরাই। সেই হিসেবে বিজেপির কাছে ৩০টি আসন দাবি করেছিলেন মতুয়ারা। কিন্তু বিজেপির তরফে তাঁদের একটিও আসন দেওয়া হয়নি। তাই স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফুঁসছেন মতুয়ারা। বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়াদের ভোট যদি বিজেপির পাশ থেকে সরে যায় তাহলে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের ৭৪টি আসনে আশানুরূপ ফলাফল নাও হতে পারে বিজেপির।

প্রার্থীপদ না মেলায় হতাশ মতুয়ারা আলাদা প্রার্থী দেওয়া নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই এই বিষয়ে তাঁরা চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের উত্তরবঙ্গের পর্যবেক্ষক রঞ্জিত সরকার। বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়ারা যদি আলাদা প্রার্থী দেন তাহলে বিধানসভা নির্বাচনের এক চতুর্থাংশ আসনের ফলাফল বিজেপির প্রতিকূলে চলে যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। প্রায় ৭৪টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ এই মতুয়ারা ভোটের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। গত লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলি থেকে ব্যাপক পরিমাণ ভোট পেয়েছিল বিজেপি। যার ফলে তাদের জয়ের পথ সুগম হয়েছিল। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের তরফে বিভিন্ন জায়গায় মতুয়াদের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশগুলোতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংঘাধিপতি তথা সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এবং মহাসংঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুর। সেই সময় তাঁরা জানিয়েছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন মতুয়ারা। বিধানসভায় মতুয়াদের প্রতিনিধিত্ব দাবি করেছিলেন তাঁরা। সেই নিরিখে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলি থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের যাতে প্রার্থী করা হয় তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে মতুয়াদের একটা বড় অংশ বিজেপিকে সমর্থন করে তাই স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির কাছ থেকে কিছু আসন দাবি করেছিলেন তাঁরা।

উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে মোট ৩০টি আসন দাবি করেছিল অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ। মতুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের সেই দাবিকে মান্যতা দেওয়া হয়নি। দুই বঙ্গ মিলিয়ে একটিও আসন দেওয়া হয়নি তাঁদের। তাই স্বাভাবিকভাবেই তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে মতুয়াদের মধ্যে। রঞ্জিত সরকার বলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনে আমরা যে তালিকা দিয়েছিলাম তার মধ্যে থেকে একজনকেও প্রার্থী করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। ঠাকুরবাড়ির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছি। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’