তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের ভোট পেতে তৃণমূলের তরফে নানান আয়োজন

164

রায়গঞ্জ, ২৬ মার্চঃ তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ভূক্ত মানুষদের ভোটের আগে মন পেতে মহীপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে শুক্রবার ভোজনসভার আয়োজন করা হয়। হেমতাবাদ বিধানসভার অন্তগত মহীপুর অঞ্চলের মালটুলি গ্রামে প্যান্ডেল করে প্রায় হাজার খানেক তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ভূক্ত মানুষকে পেট ভরে মুরগির মাংস আর ভাত পাত পেতে খাওয়ানো হল। দুপুর ১টা থেকে শুরু হয়ে, চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। নির্বাচনি আচরণ বিধি লাগু হয়ে যাওয়ার পর কোনও রাজনৈতিক দল এভাবে প্যান্ডেল করে সাধারণ মানুষকে খাওয়াতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাম ও বিজেপি নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে ভিডিও ফুটেজ সহ জেলা নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁরা অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন নেতৃত্ব। রায়গঞ্জ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিককে ফোন করা হলে মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানিয়েছেন।

হেমতাবাদ বিধানসভার সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম প্রার্থী ভূপেন বর্মণ জানান, নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর এভাবে খাওয়ানো যায় না। এভাবে তৃণমূল ভোট কিনতে চাইছে। আমরা ভিডিও ফুটেজ সহ নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাব। হেমতাবাদ বিধানসভার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য ভানুকিশোর সরকার বলেন, কয়েকদিন আগে তৃণমূল প্রার্থী বাউল গানের আসরে গিয়ে টাকা বিলি করলেন। এবার তপশিলি জাতি ও উপজাতিভূক্ত মানুষদের ভোট পেতে মাংস ভাত খাওয়ালেন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানাবো। তিনি আরও বলেন,তৃণমূলের একাংশ নেতা গত ১০ বছর ধরে গরীব মানুষের টাকা মেরেছে, কাটমানি খেয়েছে। এবার সেই টাকায় গরীব মানুষকে খুশি করতে ভোটের আগে কখনও টাকা বিলি করছেন, আবার কখনও মাংস ভাত খাওয়াচ্ছেন। এরা যে গরীব মানুষের টাকা মেরে সেই টাকায় খাওয়াচ্ছেন তা সবাই বুঝেছেন। ভোটে এর যোগ্য জবাব পাবে তৃণমূল।

- Advertisement -

হেমতাবাদ বিধানসভার গতবারের বিজেপি প্রার্থী তথা বিজেপির জেলা সভাপতি ভানুরাম বর্মন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর এভাবে খাওয়ানো যায় না। এটা এক কথায় ভোট কেনাই হল। নেতৃত্বরা এদিন গ্রামে গিয়ে ছবি তুলে নিয়ে এসে নির্বাচন কমিশনকে ছবি সহ অভিযোগ জানাবেন। জেলা কংগ্রেসের কার্যকারী সভাপতি পবিত্র চন্দ বলেন, সারাজীবন গরীব মানুষদের ঠকিয়ে একদিন মাংস ভাত খাইয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটে জেতার জন্য মাংস ভাত খাওয়াচ্ছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাব। প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আয়োজকদের পক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের মহীপুর অঞ্চল সভাপতি দীপক মিশ্র জানান, তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের সংযোগে সহভোজন সভা হচ্ছে। প্রায় এক হাজার মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে। মালটুলি গ্রামে এই খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দুপুর ১টা থেকে শুরু হয়েছে। যতক্ষণ শেষ না হচ্ছে চলবে।পার্টির তরফে এই আয়োজন করা হয়েছে। এদিন খাওয়া দাওয়ার মেনুতে মুরগির মাংস, ডাল, সবজি এবং ঘণ্টও ছিল। তিনি বলেন, কত টাকা খরচ হচ্ছে এখন বলা যাচ্ছে না। লোকজন বেড়ে গেলে খরচ বাড়বে।

নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর এভাবে খাওয়ানো যায় কি? এই প্রশ্নের উত্তরে দীপকবাবু বলেন, এটা তো পার্টির প্রোগ্রাম করছি না। তপশিলি জাতি ও উপজাতিভূক্ত লোকদের নিয়ে সংযোগে সহভোজন করছি। পার্টির কোনও আলোচনা হচ্ছে না। আমরা ভোটও চাইছি না। দলের তরফে করছি। তবে আমরা সমাজসেবী হিসেবেও করতে পারি। মমতা বন্দোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের জন্য কি উন্নয়ন করেছেন, সেই কথা জানানো হল। মানুষ নিজের মতো খাওয়া-দাওয়া করছেন। তাই এর সঙ্গে নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনের কোনও বিষয়ই নেই।