রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের দায় মুখ্যমন্ত্রীরই : সেলিম

92

কলকাতা: রাজ্যের মানুষ বাংলার সংস্কৃতি, সম্প্রীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে, হিংসার বিরুদ্ধে ও শান্তি- সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে ভোট দিয়েছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস কে জয়ী করেছে। তা সত্বেও নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে যে হিংসা এবং সন্ত্রাস চলছে তার দায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কেই নিতে হবে। শুধু তাই নয় অবিলম্বে এই সন্ত্রাস বন্ধ করার দাবিও তুললেন সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মহ সেলিম। এদিন দলের রাজ্য দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ওই কথা বলে আরও বলেন যে, যেকোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। তাদের জোটের তিনজন নেতা-কর্মী এই নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে খুন হয়েছেন । একাধিক বাড়িঘর, দোকানপাট লুট হয়েছে । বাড়িছাড়া হয়েছেন অনেকেই । শুধুমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এরইমধ্যে ২৩২ টি হামলার ঘটনা লিপিবদ্ধ করে সেখানকার জেলাশাসকের কাছে জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্যের সমস্ত জেলার নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো উল্লেখ করে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে তারা ডেপুটেশন দেবেন বলেও তিনি জানান।
এদিন তিনি আরো অভিযোগ তোলেন যে বিজেপির পাশাপাশি রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস ও হানাহানি ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পথকে প্রশস্ত করেছ। যার নিন্দার কোনো ভাষা নেই। এর বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি আরো জানান যে ,তারা অর্থাৎ বামপন্থীরা মানুষের পাশে ছিলেন, আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন ।
এদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে কটাক্ষ করে বলেন যে, একসময় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে, তিনি গুণ্ডাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেন । এখন সেই নিয়ন্ত্রণের কাজ কোথায় গেল বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি ।
এদিন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বলেন যে, শুধু তৃণমূল কংগ্রেসই নয়, যেখানে বিজেপি জিতেছে সেখানে সন্ত্রাস ও হিংসার বাতাবরণে ছড়াচ্ছে বিজেপি, আর যেখানে তৃণমূল জিতে সেখানে একই কাজ করে বেড়াচ্ছে তৃণমূলীরা । তারা চান এই করোনার মত মহামারী রোগের সময় হানাহানি, সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ হোক ।
অপরদিকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ি পুরো সভার বর্তমান পুর প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য, কান্তি গাঙ্গুলী, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চ্যাটার্জী অভিযোগ তুলেছেন যে, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যই এবারের নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়েছে । সে ব্যাপারে করা এক প্রশ্নের উত্তরে মহ সেলিম বলেন যে, যে যার নিজের বক্তব্য পেশ করেছেন। কারণ তাদের বক্তব্যকে লাগাম টানার জন্য এখনো পর্যন্ত দল বা জোটের পক্ষ থেকে কোনো লাইসেন্স বা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়নি । তাই এ ব্যাপারে তিনি বিশেষ কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। উল্লেখ্য এদিন মোহাম্মদ সেলিম ওই কথা বললেও ইতিপূর্বে একই অভিযোগ করেছিলেন দলের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য । সেক্ষেত্রে অবশ্য তাকে শোকজ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে দল। একই ব্যাপার দলের পক্ষ থেকে দু’রকম পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দলের অন্যান্য নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।