কলকাতা ও শিলিগুড়িকে মেলাচ্ছেন লক্ষ্মীমন্ত মেধালক্ষ্মী 

72

পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি : মেধার বিকাশ ঘটাতে প্রচলিত অনলাইন ক্লাসের ধারায় এক অন্যমাত্রা যোগ করছেন শিলিগুড়ির মেধালক্ষ্মী আচার্য। কলকাতা ও শিলিগুড়ির নতুন সংযোগ ঘটিয়ে। কোথায় প্রেসিডেন্সি কলেজ, কোথায় শিলিগুড়ির মার্গারেট স্কুল, মবার্ট স্কুল! উত্তর ভারতনগরের ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রী মেধালক্ষ্মীর দৌলতে সব যেন মিশে যাচ্ছে রাতারাতি। ট্রেন, বাস সবই প্রায় বন্ধ। তবু কোনও সমস্যা হচ্ছে না। বরং এক নতুন ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে মেধালক্ষ্মী এবং তাঁর বন্ধুদের বিনা পয়সার লং ডিসট্যান্স ক্লাস। কোভিডের এই অসহ্য সময়ে মানুষকে যা নতুন পথ দেখাতে পারে অন্য শহরগুলোতেও।

মেধালক্ষ্মী নিজে এখন পড়েন প্রেসিডেন্সি কলেজে। পরিসংখ্যান নিয়ে নিজের শহরে গৃহবন্দি দশা থেকে বুঝতে পারছিলেন, তাঁর চেয়ে কমবয়সি ছাত্রছাত্রীদের কী দশা। প্রযুক্তিকে নয়া হাতিয়ার করে এখন ক্লাস নাইন থেকে শিক্ষিকা হয়ে উঠেছেন শিলিগুড়ির মেয়ে। অনলাইন ক্লাসকে নয়া মাত্রা দিয়ে প্রেসিডেন্সিতে তাঁর দুই সহপাঠী এখানে তাঁর সঙ্গী। কলকাতার কামাল গাজির বাসিন্দা সোমঋক চরণ এবং হৃষীকেশ দাস। পুরোপুরি বিনা পয়সায় কোচিং করাচ্ছেন তাঁরা। সমাজকে কিছু দিতে। মেধালক্ষ্মীর নিজের কথায়, এমন কিছু করতে পেরে ভালো লাগছে। আমাদের সামর্থ্য মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তীতেও আমরা এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।

- Advertisement -

তাঁদের ছাত্রছাত্রী বাংলাজুড়ে প্রায় ৪০ জন। এর মধ্যে শিলিগুড়িরই ১১ জন। কলকাতা ছাড়া চন্দননগর, বাঁশবেড়িয়ার ছেলেমেয়েরাও রয়েছে। কী কী পড়ান আপনারা? মেধালক্ষ্মী উত্তর দিলেন, বিজ্ঞান বিভাগের তিনটি বিষয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ ঘণ্টা করে পড়াই আমরা। ক্লাস টেন আর টুয়েলভের ছাত্রছাত্রীদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। কলকাতায় ফোনে ধরা হলে সোমঋকের মন্তব্য, পরবর্তীতে বাকি বিষয়গুলি পড়ানো যায় কি না, চেষ্টা করব। আমরা চাই, আরও ছাত্রছাত্রী আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোক।

করোনার কারণে থমকে গিয়েছে শিক্ষা। অনেক সরকারি স্কুলগুলিতে নেই উপযুক্ত প্রযুক্তি, অনেক পড়ুয়ারাই আর্থিক অনটনে কোচিং নিতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় মেধালক্ষ্মীরা সত্যিই লক্ষ্মীমন্ত অনেকের কাছে। যেমন শিলিগুড়ির মার্গারেট স্কুলের ক্লাস টেনের ছাত্রী প্রিয়া পান্ডে।  এবার পড়াশোনায় অনেক ক্ষতি হয়েছে, তারপর আর্থিক অবস্থাও ভালো নয় যে প্রাইভেট টিউশন পড়বে। এমন সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় আবিষ্কার করে, বিনা পয়সার ক্লাসের কথা। প্রিয়া বলছিল, অনেক ভালো পড়ান দিদি, দাদারা। কোনও বিষয়ে সংশয় থাকলে সঙ্গে সঙ্গে মিটিয়ে দেন। ব্যান্ডেলের কাছে বাঁশবেড়িয়ায় থাকে ক্লাস নাইনের ছাত্র সুমন সরকার। ফোনে বলছিল, কিছুদিন ধরে ক্লাস করছি। অনেক ভালোভাবে বোঝানোয় অনেক উপকার হচ্ছে আমার।

ছোট থেকেই পড়াশোনায় দারুণ দিদি মেধালক্ষ্মীকে দেখেছে খুড়তুতো ভাই শাশ্বত আচার্য। এই কঠিন পরিস্থিতিতে যখন স্কুল বন্ধ, সেই সময় দিদির কাছে পড়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেনি মবার্ট স্কুলের ক্লাস নাইনের ছাত্র শাশ্বত। বলছিল, প্রত্যেকটি বিষয় ভালোভাবে বোঝাচ্ছে। খুব সহজভাবেই বিষয়গুলি বুঝতে পারছি, অনলাইনে হলেও তেমন সমস্যা হচ্ছে না আমাদের।

সবচেয়ে খুশি বোধহয় মেধালক্ষ্মীর বাবা দীপঙ্কর, মা সঞ্চালি। দেশের এই ভয়ংকর অবস্থায় মেয়ে যে তার পরের প্রজন্মের কথা ভেবেছে, সেটা ভেবে তাঁদের আরও আনন্দ। শিলিগুড়িও মেধার জন্য গর্বিত হতে পারে।