স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলেও চিকিৎসা পরিষেবা অমিল, মৃত্যু রোগীর

295

ডালখোলা: নথিভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা পরিষেবা না মেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল ডালখোলায়। সোমবার মৃতদেহ নিয়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় এলাকাবাসী। এই ঘটনার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নেন। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে ডালখোলা থানার পুলিশ।

ডালখোলা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দাস পাড়ার বাসিন্দা রমেশ দাস(৪৫)। পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাঁকে কিশনগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা শিলিগুড়ি হাসপাতালে রেফার করে। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিকে সরকারি নথিভুক্ত শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। অভিযোগ, সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর আত্মীয়দের জানিয়ে দেয় স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না। পাশাপাশি চিকিৎসা বাবদ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এরপর অন্যত্র চিকিৎসা করানোর জন্য ডালখোলার দিকে নিয়ে আসার সময় মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।  সোমবার ওই ব্যক্তির মৃতদেহ ডালখোলা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি বেশ কিছু সময় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা।

- Advertisement -

মৃতের ছেলে দীপক দাস বলেন, ‘বাবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকায় চিকিৎসার জন্য আমরা সরকারি নথিভুক্ত শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাই। সেখানে বাবাকে এডমিট করার পর নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়ে দেয় স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে কোনো চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে না। এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে নার্সিংহোমের বিল মিটিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা জন্য বাবাকে নিয়ে রওনা হই। কিন্তু রাস্তাতেই বাবার মৃত্যু ঘটে।‘

ডালখোলা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ি কাউন্সিলার তথা বিজেপি নেতা বিনয় সাহা অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোটের আগে জনসাধারণকে ভাওতা দিতে ওই কার্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই কার্ড দেখিয়ে কোথাও চিকিৎসা পরিষেবা মেলে না।‘

যদিও ডালখোলা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তনয় দে জানান, ‘স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায় না তা পুরোপুরি মিথ্যা অভিযোগ। শিলিগুড়ির যে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রমেশ দাসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেখানে ওই ব্যাক্তির স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের পক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। সোমবার থেকেই ওই কার্ডে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যেত।’