রোগীদের খোঁজ দিয়ে পকেট ভারী কর্মীদের

175

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : সরকারি হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন রোগী। উৎকণ্ঠার মধ্যে গোটা পরিবার। সরকারি তরফে দিনে দুবার পরিবারকে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি জানিয়ে ফোনে মেসেজ পাঠানোর কথা। সেটা পাঠানো হয় না। প্রতিটি কোভিড ব্লকেই একটি করে ফোন দেওয়া হয়েছে। সেখানে হাজারবার ফোন করলেও কোনও সাড়া মেলে না। তাহলে উপায়? উপায় আছে। গ্যাঁট খুলে ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিত্সাকর্মীদের চাহিদামতো টাকা দিলে সব খবর তো পাবেনই, এমনকি আপনার রোগীও ভালো পরিষেবা পাবেন। এমনই ঘটনা ঘটছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডগুলিতে। একাধিক রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ওয়ার্ডের কর্মীদের টাকা দিলে সারাদিন-রাত রোগীর খবর পাওয়া যায়। রোগীর প্রয়োজনে সাহায্যও করেন কর্মীরা। অন্যথায় রোগীর কোনও খোঁজখবরই পাওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে হাসাপাতাল সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, এমন অভিয়োগ আমার কাছে নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পৃথক বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে করোনা সংক্রামিত রোগীদের রেখে চিকিত্সা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কোভিড ব্লক যেমন রয়েছে, তেমনই হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), ফিমেল মেডিসিন বিভাগের একাংশ নিয়ে একটি আলাদা ওয়ার্ড রয়েছে। এছাড়া রেসপিরেটরি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (রিকু), ট্রমা কেয়ার ইউনিটেও করোনা সংক্রামিত রোগীদের রেখে চিকিৎসা হচ্ছে।

- Advertisement -

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি কোভিড ওয়ার্ডেই রোগী পরিষেবার নামে টাকার খেলা শুরু হয়েছে। সকাল-বিকেল-রাত এই তিনটি ধাপে ওয়ার্ডগুলিতে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। রোগীর খেয়াল রাখার জন্য তিনটি ধাপেই কর্মীদের হাতে টাকা দিতে হচ্ছে। একাধিক রোগীর পরিবার জানিয়েছে, সকালে ২০০, বিকেলে ২০০ এবং রাতে ৪০০-৫০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। কেন টাকা দিতে হচ্ছে?

তাঁরা বলছেন, করোনা সংক্রামিত রোগীকে একবার হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেওয়ার পর আর পরিবারের লোকজনকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। একমাত্র ভরসা মোবাইল ফোন। টাকা দিলে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর নিজস্ব মোবাইলে বারবার টেলিফোন করে রোগীর শারীরিক খোঁজখবর নেওয়া যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে ভিডিও কল করে রোগীর সঙ্গে কথা বলতে পারছেন পরিবারের সদস্যরা। এখানেই শেষ নয়, রোগীর পোশাক বা ডায়াপার বদল করতে হলে আলাদাভাবে টাকা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেকটি কোভিড ওয়ার্ডেই একটি করে নতুন মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছে। যাতে প্রয়োজনে রোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। অথবা ওই নম্বরে ফোন করে রোগীর বাড়ির লোকজন খোঁজখবর নিতে পারেন। প্রতিদিন দুবার করে ওই টেলিফোন নম্বর থেকে রোগীর বাড়িতে একটি করে মেসেজ যাওয়ার কথা। কিন্তু উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে টাকা না দিলে কোনও রোগীর পরিবার খোঁজখবর পাচ্ছে না।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানাচ্ছে, প্রথম দিকে কোভিড ওয়ার্ডে কাজ করার জন্য কেউ রাজি হচ্ছিলেন না। অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মী নেওয়ার কথা হলেও কেউই উৎসাহ দেখাচ্ছিলেন না। কিন্তু এখন শুধু টাকার লোভে  কোভিড ওয়ার্ডে কাজ করার জন্য হামলে পড়ছেন অনেকেই।