যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে চিকিৎসার বর্জ্য, সংক্রমণের আশঙ্কা রায়গঞ্জ মেডিকেলে

108

রায়গঞ্জ: করোনা আবহে এক সপ্তাহ ধরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে ঢোকার রাস্তার পাশে চিকিৎসার বর্জ্য পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। সেগুলির দুর্গন্ধে দিনভর রোগী ও তাদের পরিবারের লোকেদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। চিকিৎসার বর্জ্য থেকে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বলে অভিযোগ। মেডিকেল কলেজ সূত্রে খবর, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসার বর্জ্য প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে জরুরি বিভাগে ঢোকার রাস্তার পাশে ফাঁকা জায়গায় জমা করে রাখা হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ওই এজেন্সির কর্মীরা গাড়ি নিয়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে সেগুলি সংগ্রহ করে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের ওই রাস্তার পাশেই রয়েছে লালা সংগ্রহের কাউন্টার। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর থেকেই প্রতিদিন কয়েকশ বাসিন্দা ওই কাউন্টারের সামনে ভিড় করেন। ওই রাস্তা দিয়ে রোগী ও তাদের পরিবারের লোকেরা ছাড়াও চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মেডিকেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যাতায়াত করেন।

রোগী ও তাদের পরিবারের অভিযোগ, বর্জ্যের দুর্গন্ধে লালা পরীক্ষা করতে যাওয়া বাসিন্দারা ছাড়াও রোগী ও তাদের পরিবারের লোকজনেরা দুর্ভোগে পড়েছেন। চিকিৎসার বর্জ্য থেকে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা চরমে উঠেছে। মাঝেমধ্যে কুকুরের দল চিকিৎসার বর্জ্য মুখে নিয়ে মেডিকেল কলেজ চত্বরে ছোটাছুটি করছে। ফলে যত্রতত্র সেগুলি ছড়িয়ে পড়ছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সহকারি অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘সরকারি নির্দেশে একটি এজেন্সি প্রতিদিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার বর্জ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। তা সত্ত্বেও কেন এই অভিযোগ উঠছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

- Advertisement -

রায়গঞ্জ নেতাজি পল্লীর বাসিন্দারা ভানু সাহা পেশায় ব্যবসায়ী, রমেন্দ্র পল্লী এলাকার বাসিন্দা মোহন লাল মহন্ত জানান, একেই করোনা আবহে বাসিন্দারা সংক্রমণের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছে। তার ওপরে চিকিৎসার বর্জ্য থেকে নতুন করে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন নিয়মিত সাফাইয়ের ব্যবস্থা করছেন না সেটা স্পষ্ট নয়। তাদের পরামর্শ, ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা এড়াতে মেডিকেল কর্তৃপক্ষের চিকিৎসার বর্জ্য জনবহুল এলাকায় জমা না করে নিরাপদ জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করা উচিত।