মুজনাইয়ে সেতুর দাবিতে সভা

155

রাঙ্গালিবাজনা: আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ও মাদারিহাট ব্লকের সীমানায় উত্তর দেওগাঁওয়ে মুজনাই নদীর ভেসে যাওয়া সেতু পুনর্নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নামার রূপরেখা তৈরিতে বৈঠকে বসলেন দুই ব্লকের সাধারণ মানুষ। সোমবার সন্ধ্যায় দেওগাঁওয়ের লকিয়তউল্লাহ হাটে দুই ব্লকের লোকজন বৈঠকে বসেন। সভায় পৌরোহিত্য করেন প্রবীণ বাসিন্দা সফিয়ার রহমান। সেতু তৈরির দাবিতে কি ধরনের আন্দোলন শুরু করা হবে, তা নিয়ে এদিন প্রাথমিক ধাপের আলোচনা করেন তাঁরা। সভা শেষে সেতু তৈরির দাবিতে ১৫ জন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফালাকাটার দেওগাঁওয়ের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘অনিল অধিকারী বিধায়ক থাকার সময় তাঁর হাতে সেতু তৈরির দাবিতে কাগজপত্র তুলে দিই। তিনি সেতু তৈরির তোড়জোড়ও শুরু করেন। কিন্তু তাঁর প্রয়াণে হোঁচট খায় সেতু তৈরির প্রক্রিয়া।’ মাদারিহাটের নবীপুরের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘২৮ বছর ধরে যোগাযোগের সমস্যায় ভুগছি। এবার দুই ব্লকের বাসিন্দাদের নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।’

- Advertisement -

ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্য কপিল আহমেদ বলেন, ‘আমরা একসময় চেষ্টা করেছি। এবার বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের ওপর নির্ভর করছি।’ দেওগাঁওয়ের বিজয় রায় বলেন, ‘সেতু না থাকায় যে চরম সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে তা বারবার তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। এবার এই বৈঠক থেকেই আমাদের সেতু তৈরির দাবিতে অগ্রসর হতে হবে।’ উত্তর দেওগাঁওয়ের বাসিন্দা অলিয়ার রহমান বলেন, ‘সেতু তৈরির দাবিতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হবে নবগঠিত কমিটি।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের বন্যায় সেতুটি ভেসে গেলেও আজ পর্যন্ত পুনর্নির্মিত হয়নি সেটি। ফলে ২৮ বছর ধরে সমস্যায় ভুগছেন মাদারিহাট ও ফালাকাটা ব্লকের হাজার হাজার মানুষ। গত বছরের জানুয়ারি মাসে মাদারিহাটের শিশুবাড়ির একটি অনুষ্ঠানে এসে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সেতু তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেন প্রশাসনের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু তাঁর নির্দেশের এক বছর পরও সেতু তৈরির বিষয়টি আটকে রয়েছে।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘প্রশাসনের তরফে সেতু তৈরির প্রস্তাব হাতে পেলেই সেতু তৈরির বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু হবে।’