বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়তে মার্চে গুয়াহাটিতে বৈঠক

142

আলিপুরদুয়ার : বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়া নিয়ে আগামী ১ ও ২ মার্চ গুয়াহাটিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এনটিসিএ (ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি)-র উদ্যোগে বিভিন্ন রাজ্যের বন্যপ্রাণ শাখার মুখ্য বনপাল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের টাইগার রিজার্ভের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে এই বৈঠক হতে চলেছে। ইতিমধ্যে আলিপুরদুয়ারে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ও পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। বাঘের খাবারের জন্য প্রায় ২০০ চিতল হরিণ বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছে। বক্সার জঙ্গলে ছটি বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অসম ওই বাঘ দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে সম্মতিও দিয়েছে। তবে কটি পর্যায়ে বাঘ বক্সা আসবে, মার্চের বৈঠকে তার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হতে পারে। বক্সা টাইগার রিজার্ভের ফিল্ড ডাইরেক্টর শুভঙ্কর সেনগুপ্ত বলেন, আগামী ১, ২ মার্চ গুয়াহাটিতে এনটিসিএর উদ্যোগে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়াও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বনাঞ্চলের অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

আলিপুরদুয়ারের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বক্সার জঙ্গল। বন দপ্তর প্রায় তিন বছর আগে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। বক্সার জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মিলেছে বলে বিভিন্ন সময় গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কিন্তু বিস্তীর্ণ ওই বনাঞ্চলে বাস্তবে বাঘের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চয়তা মেলেনি। তবে এখানে হাতি, বাইসন, চিতাবাঘ, ভাল্লুক, বনশুয়োর, শেয়াল সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি কমবেশি নজরে পড়েছে। বক্সার জঙ্গলে বাঘের বসবাসের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিকাঠামো রয়েছে বলে বন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়তে ইতিপূর্বেও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পটিকে পাঁচ বছরের মধ্যে রূপায়িত করার পরিকল্পনা নিয়েছিল বন দপ্তর। বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার আগে তাই বাঘের বসবাসের উপযোগী কী কী পরিকাঠামো দরকার, তার সমীক্ষার কাজ শেষ করা হয়। পরবর্তীতে পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে তা অনেকটাই শেষ করে ফেলেছে বন দপ্তর। বক্সার জঙ্গলের মাটি, জল, বাতাস, পরিবেশের সমীক্ষার কাজ করার পর বাঘের জন্য বনাঞ্চলের ভিতরে বেশ কিছু জলাধারও নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে বাঘ ইচ্ছেমতো জলপান করতে পারবে। বাঘ এক বিশেষ ধরনের ঘাসের উপর বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই বক্সার বনাঞ্চলে বাঘের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সেই ঘাস রোপণও করা হয়েছে। বনাঞ্চলের পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখতে ট্র‌্যাপিং ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বাঘের খাবারের রসদ হিসেবে ইতিমধ্যে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় ২০০টি চিতল হরিণ ছাড়া হয়েছে। আরও কয়েকশো শম্বর ছাড়তেও বন দপ্তর উদ্যোগী হয়েছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এনটিসিএর উদ্যোগে বছরে একাধিকবার টাইগার রিজার্ভের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক হলেও করোনা পরিস্থিতির জন্য প্রায় বছরখানেক এই বৈঠক হয়নি। গুয়াহাটির বৈঠকেই বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বনকর্তারা।

- Advertisement -