সাহেবগঞ্জে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হাট তৈরীর বিষয়ে আলোচনা সভা

201

দিনহাটা, ১৮ জানুয়ারিঃ সোমবার কোচবিহার জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের সাহেবগঞ্জে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হাট তৈরীর বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হল। পাশাপাশি সাহেবগঞ্জের সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন প্রস্তাবিত হাট এলাকাও পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবসা বিশেষজ্ঞ সংগঠনের প্রতিনিধি দল। এদিন সাহেবগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সাহেবগঞ্জ আনন্দ আশ্রম প্রাঙ্গনে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির ব্যবস্থাপনায় ওই আলোচনা সভা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবসা সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ সংগঠন টাটস (TUT’S) ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি সুমন্ত বিশ্বাস ও শাশ্বত মুখোপাধ্যায়, ফোসিনের সাধারন সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস, দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী, কোষাধ্যক্ষ মানিক বৈদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, স্থানীয় প্রশাসনের সদস্য, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও এলাকার বাসিন্দারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা সীমান্ত হাট সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেনক সীমান্ত হাটের একাধিক প্রস্তাবিত এলাকা ঘুরেও দেখেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক সীমান্ত হাট হল দুই দেশের প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি হাট, যেখানে দুই দেশের ক্রেতা বিক্রেতারাই প্রয়োজন মতো বেচাকেনা করতে পারবেন। ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চোরাচালানের প্রক্রিয়ায় হ্রাস টানা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, সংলগ্ন দেশগুলির মানুষের মধ্যে ব্যবসায়ীক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সুদৃঢ় হবে।

- Advertisement -

টাটস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি দলের সদস্য সুমন্ত বিশ্বাস বলেন, আন্তর্জাতিক বর্ডার হাটের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়গুলি সীমান্তবর্তী দুই দেশের নীতি মেনেই করা হয়। মূলত প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ, যারা শহরাঞ্চল থেকে অনেকটা দুরে থাকেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই বর্ডার হাট করা হয়। বর্ডার হাট গুলিতে সপ্তাহে একদিন দুই দেশের স্থানীয় বিক্রেতা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠির মহিলারা তাঁদের উৎপাদিত স্থানীয় সামগ্রীগুলি বিক্রি করতে পারবেন। দুই দেশের ক্রেতারাও নিজেদের প্রয়োজন মতো সেসব কিনতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, সাধারণত এই হাটগুলিতে মোট ৫০টি স্টল থাকে। এছাড়াও, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী এবং ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত থাকবেন। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার চ্যাংরাবান্ধা এবং দিনহাটা মহকুমার সাহেবগঞ্জে এই ধরনের হাটের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে আগেও একটি প্রতিনিধিদল সাহেবগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করেছিল। এদিন পুণরায় আলোচনা সভা ও পরিদর্শন হয়। সমগ্র বিষয় সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেওয়া হবে।

এই প্রসঙ্গে দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, টাটস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি দল কয়েক দফায় প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন ও আলোচনা সভা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে দিনহাটা মহকুমার সাহেবগঞ্জেই সীমান্ত হাট গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিনিধিদল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠাবেন। এরপর সীমান্ত হাটের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পরিচালনা সহ একাধিক বিষয় নিয়ে, দুই দেশের প্রতিনিধিদের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এই হাট চালু হলে দুই দেশের বিক্রেতাদের পাশাপাশি, স্থানীয় ক্রেতারাও উপকৃত হবেন। সীমান্ত এলাকার ব্যবসার ক্ষেত্রেও অনেক উন্নতি হবে বলে আশাবাদী তিনি।