তৃণমূলের কর্মী-নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব কমাতে ফালাকাটায় প্রধান-উপ প্রধানদের বৈঠক

183
ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠক।

ফালাকাটা: ফালাকাটার পঞ্চায়েত সমিতি সহ অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। সূত্রের খবর, গত একবছর ধরে নেতৃত্বগত সমস্যার কারণে দলীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশের সঙ্গে নীচু তলারকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দলের গাইডলাইনের বাইরে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের বিরুদ্বে দুর্ণীতির অভিযোগও বারবার উঠেছে-উঠছেও। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের ব্লক সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সুভাষ রায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে কার্যত  হিমসিম খেতে হচ্ছে। যদিও তিনি দায়িত্ব পেয়েই সংগঠনের অনেক কিছুই ঢেলে সাজাতে শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে তৃণমূলের পঞ্চায়েত, প্রধানদের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব মেটাতে রবিবার ফালাকাটার দলীয় কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুদ্বদ্বার বৈঠক হয়। দলের ঘাটতি পূরণ ও আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এদিনের বৈঠকের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের নানা সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়। যদিও দলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘দলীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এদিন সৌজন্য সাক্ষাৎতের জন্যই বৈঠক করা হয়।’

 ২০১৪ সাল পর্যন্ত ফালাকাটায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ছিলেন শ্যামল ভদ্র। তাঁর মৃত্যুর পর এই পদে ছিলেন বিধায়ক অনিল অধিকারি। কিন্তু গত বছর ৩১ অক্টোবর বিধায়কের মৃত্যুর পর নেতৃত্বের সংকট শুরু হয় ফালাকাটায়। কয়েক মাস কার্যকরী সভাপতি ও পরে ব্লক সভাপতির পদে থেকে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যান সন্তোষ বর্মন। সম্প্রতি তিনি মারা যাওয়ায় দল আরও সংকটে পড়ে। প্রায় এক বছর থেকে দলের এই ডামাডোল পরিস্থিতিতে জনপ্রিনিধিদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। এই অবস্থায় গত ৫ অক্টোবর ফালাকাটায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি করা হয় গুয়াবরনগরের প্রাক্তন প্রধান সুভাষ রায়কে। গত বৃহস্পতিবার তাঁর ডাকে আয়োজিত প্রথম কর্মীসভায় দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। তিনি এবার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দলের সম্পর্ক অটুট রাখতে এদিন বৈঠক করেন।

- Advertisement -

ফালাকাটায় ১২টির মধ্যে ১০টি অঞ্চলই তৃণমূলের দখলে। দলের ভিতরেই অভিযোগ উঠেছে যে,প্রধান,উপপ্রধানদের একাংশের সঙ্গে তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট অঞ্চল সভাপতির সম্পর্ক ভালো নয়। আবার ব্লক নেতৃত্বের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দূরত্ব্যের কারণে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করতে চাইছে তৃণমূল। এদিকে সম্প্রতি দলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, একাধিক শাখা সংগঠনের সভাপতিদের সঙ্গে মূল সংগঠনের ব্লক কমিটির মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এজন্য এদিন প্রথমে শাখা সংগঠনের সভাপতি ও পরে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দু’দফায় বৈঠক হয়। বৈঠকে ফালাকাটার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য নেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ও দলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় উপস্থিত ছিলেন। যদিও ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘এদিন সাংগঠনিক মিটিং করা হয়। সেখানে আগামী এক মাসের জন্য দলীয় কাজের ক্যালেন্ডার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক মাস পর আবার রিভিউ মিটিং হবে।’

দলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘ প্রশাসনিক পরিষেবার জন্য সাধারণ মানুষের সমস্যা দূর করতে অঞ্চলের প্রধান,উপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। সকলকে সাংগঠনিক বার্তা দেওয়া হয়। কোন অঞ্চলে কী কী ঘাটতি রয়েছে সে বিষয়েও এদিন শোনা হয়।’  জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলের দূরত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এরকম কোনও ব্যাপার নেই। সকলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই দলের কাজ চলবে।’