ত্রিপাক্ষিক বৈঠক থেকে জাতীয় সড়কের ধারে থাকা ব্যবসায়ীদের পূনর্বাসনের আশ্বাস

116

ফাঁসিদেওয়া, ২৯ ডিসেম্বরঃ নির্মীয়মান ঘোষপুকুর-সলসলাবাড়ি ইষ্ট ওয়েস্ট করিডর তথা ৩১ডি জাতীয় সড়কের দু’ধারে ভেঙে দেওয়া দোকান পূনর্বাসনের দায়িত্ব নিল সড়ক নির্মাণকারী ঠিকাদার সংস্থা। মঙ্গলবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ফুলবাড়ি ব্যারেজ লাগোয়া এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা হয়। সেখান শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সদ্য প্রাক্তন সদস্য মহম্মদ আইনুল হক, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সড়ক নির্মাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা থেকেই এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ফাঁসিদেওয়া সমষ্টি উন্নয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে যৌথ বৈঠকে ওই ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জাতীয় সড়কের ধারের ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। অথচ, সম্প্রতি সড়ক নির্মাণকারী সংস্থা আচমকা সড়কের ধারে থাকা দোকান আর্থমুভার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, দোকানের ওপর বালি ফেলে দেওয়া হয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা। সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর এদিন বিষয়টি নিয়ে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা হয়।

- Advertisement -

বছর কয়েক আগে ঘোষপুকুর থেকে ফুলবাড়ি হয়ে সলসলাবাড়ি পর্যন্ত ইষ্ট ওয়েস্ট করিডরের নির্মাণের জন্য ফোর লেন সড়ক নির্মাণকার্য শুরু হয়। রাস্তার সম্প্রসারণের জন্য মহানন্দা ব্যারেজ লাগোয়া এলাকায় সড়কের ধারে কিছু দোকানের সরানোর জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। তবে, কিছু ব্যবসায়ী প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছেন। সংসার এবং রুজি বাঁচাতে তাঁরা পূণর্বাসনের দাবি তুলেছিলেন। আচমকা বেসরকারি সড়ক নির্মাতা সংস্থার অনাকাঙ্খিত পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদোর মধ্যে ব্যপক শোরগোল পড়ে যায়।

এদিনের বৈঠক থেকে সড়ক নির্মাতা সংস্থার তরফে আইআর প্রবীর মণ্ডল জানিয়েছেন, সড়ক নির্মাণের কাজ চলবে। পাশাপাশি, পূনর্বাসন নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আশ্বাসের পর আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছেন, দীপঙ্কর রায় নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি আরও জানান, পূণর্বাসন দেওয়া হলে, সকলেই উপকৃত হবে। তাই আপাতত তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন।

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সদ্য প্রাক্তণ সদস্য মহম্মদ আইনুল হক জানিয়েছেন, সড়ক নির্মাতা সংস্থা প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্বেও, হঠাৎ দোকানের ওপর বালি ফেলে দেয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ জমে। এনিয়ে তাঁরা আন্দোলনে নামেন। আলোচনা থেকে ব্যবসায়ীদের ফের পূণর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পূনর্বাসন দেওয়া হলে, গরীব ব্যবসায়ীদের সমস্যা মিটবে বলে তিনি আশাবাদী।