ক্রান্তিতে সায়ন্তন বসুর সভা

485

ক্রান্তি: বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততোই তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করে দিল বিজেপি নেতৃত্ব। শুক্রবার বিজেপির মাল পশ্চিম মন্ডলের ক্রান্তিতে র‍্যালি ও সভা করল বিজেপি। এদিনের বিজেপির মিছিলের মুখ্য আকর্ষণ ছিল রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। পথসভা থেকে রীতিমত আক্রমণাত্মক ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমন করেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক।

দুপুর তিনটের সময় মাল ব্লকের ক্রান্তি সাত হাত কালীবাড়ির সামনে থেকে বিজেপির মিছিল শুরু হয়ে ক্রান্তি বাজারের অদূরে চৈতন্য কালীবাড়ির সামনে শেষ হয়। মিছিল শেষে শুরু হয় পথ সভা। সায়ন্তন বসু ছাড়াও এদিনের মিছিল ও পথসভাতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপি সভাপতি বাপি গোস্বামী, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, বিজেপি কিষাণ মোর্চার সভাপতি নকুল দাসসহ জেলা ও মন্ডলের নেতৃত্বরা।

- Advertisement -

কর্মী সমর্থকদের উদ্দ্যেশ্যে সায়ন্তন বসু বলেন, ‘এই সরকারের আর মাত্র কিছুদিন বাকি আছে। পিসি-ভাইপো ছাড়া তৃনমূলে আর কেউ থাকবে না। রাজ্য পুরো দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে। দিদি এখন পিসিতে রূপান্তরিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হবার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার উত্তরবঙ্গে এসেছেন কিন্তু উত্তরবঙ্গের জন্য উনি কি করেছেন।‘

এদিন তিনি আরও বলেন, ‘এখনও কলকাতা লন্ডন হয়নি, দার্জিলিং সুইজারল্যান্ড হয়নি, দীঘা গোয়া হয়নি কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিদি থেকে পিসিমা হয়ে গিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে কোন শিল্প নেই, চাকরি নেই। ছেলেমেয়েরা বাংলার বাইরে চলে যাচ্ছেন। রাজবংশী সম্প্রদায়ের মেয়েরা ধর্ষিত হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী মানুষরা তৃনমূলের থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসলে যুবকদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।‘

পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করে জয়ন্ত রায় বলেন, ‘১৯৯৭-৯৮ সালে আমি দক্ষিণ হাঁসখালি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক হিসেবে ছিলাম, অথচ আজকের দিনে সাধারণ মানুষদের আরও উন্নত পরিষেবা পাবার কথা থাকলেও তাঁরা পাচ্ছেন না। রাজ্য সরকার কেন্দ্রের আয়ুষ্মান কার্ড রাজ্যে আসতে দিচ্ছেন না। উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জে এইমসকে কল্যাণীতে নিয়ে গেলেন। উত্তরবঙ্গের মানুষকে এরফলে বঞ্চিত করা হল।‘

এদিনের মিছিল ও পথসভাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। এই ভিড় মাল বিধানসভাতে আগামী বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা এনে দেবে বলে মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।