বুনোদের অপমৃত্যু ঠেকাতে উত্তরবঙ্গে বিশেষজ্ঞ দল

89

নাগরাকাটা, ১৮ ফেব্রুয়ারিঃ রেলপথে ট্রেন থেকে শুরু করে জাতীয় সড়কে গাড়ির ধাক্কা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে, হাতি, বাইসন সহ অন্য বুনোদের অপমৃত্যু নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি বৃহস্পতিবার পা রাখলো উত্তরবঙ্গে। সংশ্লিষ্ট কমিটি সব মহলের সঙ্গে কথা বলতে ডুয়ার্সের ২টি স্থানে বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেন। প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় চাপরামারিতে। অপরটি রাজাভাতখাওয়ায়। উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) রাজেন্দ্র জাখর বলেন, বিশেষজ্ঞ কমিটি সবার সঙ্গে কথা বলছে। এদিন তাঁরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের বক্তব্যও শুনেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রেই জানা গিয়েছে, শুক্রবার ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী ডঃ সুশান্ত চৌধুরির নের্তৃত্বাধীন ওই কমিটি চাপরামারিতে ডুয়ার্স-তরাই এলাকার ১১টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁরা খুনিয়া মোড় ও নাগরাকাটার সুখানি বস্তিতে বিদ্যুতের এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটিতে যাওয়া তারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। হাতির করিডর হিসেবে পরিচিত সুখানী বস্তিতে সম্প্রতি উন্মুক্ত বিদ্যুতের তার বদল করে, সেই স্থানে আবরণযুক্ত ইনসিউলেটেড তার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের সাঙ্গে তা চাক্ষুস করতে তাঁরা সেখানে যান। রাজাভাতখাওয়ার বৈঠকে উপস্থিত ছিল আলিপুরদুয়ার জেলার ৪টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুক্রবার সকালে আলিপুরদুয়ারে তাঁদের প্রথম বৈঠক হবে রেল দপ্তরের সঙ্গে। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় বৈঠকটি হবে বিন্নাগুড়িতে চা মালিকদের সংগঠন ডিবিআইটিএ-র সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

- Advertisement -

শনিবার সুকনাতে বিশেষজ্ঞরা বনাধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা বসবেন বলে খবর। এর আগে কলকাতাতে বিদ্যুৎ ও সড়ক দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সাথে বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠক হয়ে গিয়েছে। সবার বক্তব্য শুনে পরবর্তীতে তাঁরা হাইকোর্টের কাছে রিপোর্ট পেশ করবেন বলে জানা গিয়েছে। হাইকোর্টই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বুনোদের অকালমৃত্যু ঠেকাতে বন দপ্তরকে বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল। এদিকে, শুক্রবারই রাজাভাতখাওয়ায় শকুন নিয়ে বনদপ্তর একটি বৈঠক ডেকেছে। এব্যাপারে গঠিত স্টেট লেবেল ম্যানেজমেন্ট কমিটি ওই বৈঠকটি ডেকেছে। সেখানে শকুন সংরক্ষনের নানানদিক তুলে ধরা হবে। রাজাভাতখাওয়াতেই এরাজ্যের একমাত্র শকুন প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে।

ডুয়ার্স চেরা রেলপথে ট্রেনের ধাক্কায় এর আগে বহু হাতির মৃত্যুর হয়েছে। মারা গিয়েছে বাইসন এমনকি ক্ষিপ্র গতির চিতাবাঘও। যদিও, নানা পদক্ষেপ করায় সম্প্রতি ওই ধরনের দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনেকটাই রাশ টানা সম্ভব হয়েছে। তবে, জাতীয় সড়কে দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় বুনোদের হতাহতের ঘটনা প্রায়শই ঘটে চলেছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চা বাগান থেকে শুরু করে বনবস্তী এলাকায় হাতির পরপর কয়েকটি মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। এদিনের ২টি বৈঠকে ওই ধরনের মৃত্যুর ঘটনার পাশাপাশি নদীতে বিষ প্রযোগে কিংবা ইনভার্টারের বিদ্যুৎ শক দিয়ে মাছ ধরার বিষয়ও উঠে আসে। এর ফলে শুধু মাছই নয়। অন্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র। পাশাপাশি, জঙ্গলে অকাতরে গবাদি পশুর প্রবেশের কারনে বুনো তৃণভোজীদের খাদ্য সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরার চেষ্টা করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা। বহু চা বাগান ব্লেড তারের বেড়া দিয়ে নিজেদের এলাকা ঘিরে দেওয়ায় বুনোদের চলাচলের ওপর মারাত্মক কুপ্রভাবের বিষয়টিও আলোচনা করা হয়।

৫ সদস্যর যে বিশেষজ্ঞ কমিটি সব পক্ষের বক্তব্য ও মতামত শুনছেন, তাতে অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন হস্তী বিশেষজ্ঞ ডঃ মুক্তি রায়, প্রাক্তন মুখ্য বনপাল প্রশান্ত পন্ডিত, মুখ্য বনপাল (হেড কোয়ার্টার) শৈলেশ আনন্দ ও পরিবেশবিদ অনিমেষ বসু। কমিটির মেম্বার সেক্রেটারির দ্বায়িত্বে রয়েছেন শৈলেশ আনন্দ। চাপরামারির বৈঠকে এদিন উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ছাড়াও ছিলেন গরুমারা ও জলপাইগুড়ি ডিভিশনের ডিএফও নিশা গোস্বামী, মৃদুল কুমার। রাজাভাতখাওয়ায় বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর শুভঙ্কর সেনগুপ্ত হাজির হয়েছিলেন।