বিজেপি সতী নারীদের ঘর ভাঙে, আর অসতীদের পুজো করে, বললেন সুজাতা

116

বর্ধমান, ১১ জানুয়ারিঃ সক্রিয় ভূমিকায় সোমবার পদ্ম শিবিরে অবতীর্ণ হলেন শোভন ও বৈশাখী। তাঁদের উদ্দেশ্য করে বেনজির আক্রমন শানালেন সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে দেওয়া সুজাতা মণ্ডল খাঁ। বিষ্ণুপুর লোকসভা অধীন পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে, বৈশাখী ব্যানার্জীর নাম মুখে না এনে তাঁকে ‘অসতী নারী’ বলে কটাক্ষ করলেন সুজাতা। একই সঙ্গে সুজাতা বলেন, বিজেপিতে কোনও সতী নারীদের জায়গা নেই। বিজেপি সতী নারীদের ঘর ভাঙে আর অসতীদের পুজো করে। সুজাতা এবং তাঁর বক্তব্যকে যদিও পাত্তাই দিতে চাননি বৈশাখী ব্যানার্জী। পালটা প্রতিক্রয়ায় তিনি বলেছেন, ওঁর কথার কোনও গুরুত্ব আমি দিতে চাই না। ওঁর কথা আমার কাছে যত কম বলবেন ততোই ভালো।

বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ গত ২১ ডিসেম্বর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে কংগ্রেসে যোগদান করেন৷ যোগদানের পর এই প্রথম সুজাতা মণ্ডল খাঁ তাঁর স্বামীর সাংসদ এলাকা বিষ্ণুপুরের খণ্ডঘোষ বিধানসভার জনসভায় যোগ দিলেন। ওই সভায় সুজাতা ছাড়াও তৃণমূলের রাজ্যের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ, দেবু টুডু, মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, প্রাক্তন সাংসদ মমতাজ সংঘমিতা, জেলা যুব সভাপতি রাসবিহারী হালদার সহ অন্য নেতা-নেত্রী ও বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুজাতা মণ্ডল খাঁ আরও বলেন, বিষ্ণুপুর লোকসভার মানুষ আমাকে রাজনীতির ময়দানে জায়গা করে দিয়েছিল। সেই লোকসভার অধীন খণ্ডঘোষ বিধানসভায় এই প্রথম তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিলেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বিজেপি দলটা, বর্বর, অসভ্য, সাম্প্রদায়িক ও ভেকধারীদের। ওই দলে মহিলাদের কোনও সন্মান নেই। বিজেপি নেতারা মুখে যা বলে কাজে তা করে না। বিজেপির লোকজন মুখে জয় ‘শ্রীরাম’ বলে। আমিও বলি। রামচন্দ্রকে আমরা সবাই ভক্তি করি। কোথাও লেখানেই শ্রীরাম চন্দ্র শুধুমাত্র বিজেপির ভগবান।

সুজাতার দাবি, ভোটে জেতার জন্য বিজেপি শ্রীরামচন্দ্র কে ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ করেছে। আর এসব করে বিজেপি হিন্দু ও মুসলিমে লড়িয়ে দিচ্ছে। আবার জাতপাতের দোহাই দিয়ে হিন্দুতে হিন্দুতেও লড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে শুরু করে, এযাবৎ কালের নানা তথ্য ঘেঁটে তিনি জেনেছেন বিজেপি ও আরএসএস দলিত অর্থাৎ তপশিলি পরিবারের মানুষদের মর্যাদা দেয় না। ঘৃণা করে। ইংরেজরা ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পলিসি নিয়ে দেশে অশান্তি লাগিয়েছিল। সেটার মাশুল আজও দিতে হচ্ছে। এখন বিজেপি ফের সেটাই করছে।

শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে সুজাতা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দয়ায় কাঁথির নেতা ও তাঁর পরিবার এতদিন সমস্ত ক্ষমতা ভোগ করেছেন। নিজেকে জননেতা বলে দাবি করা কাঁথির নেতা ইডি, সিবিআইয়ের ভয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কেশপুর ও সবংয়ে ওনার জনসভায় লোক হয়নি। মমতা পচা মাল ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছেন, আর বিজেপির দিলীপ ঘোষরা সেটাই লুফে নিচ্ছেন। কাঁথির নেতা তৃণমূলে থাকাকালীন চোর ছিলেন। কিন্তু, বিজেপির সাবান মেখে সাধু হয়ে গিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে কাটাক্ষের সুরে সুজাতা বলেন, তিনি অনেক বেইমান দেখেছেন, কিন্তু এতবড় মাপের বেইমান দেখেননি। আর চারমাস পর জননেতা চুপসে এবং ফুটে যাবে।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সহ ভিন রাজ্যের অন্যান্য বিজেপি নেতাদের অহরহ বাংলায় হাজির হওয়া নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সুজাতা। তিনি বলেন, আগামী কয়েকটা মাস পশ্চিমবঙ্গ দেশের রাজধানী হয়ে যেতে পারে। এমন হাবভাব করছে যেন, এখনই ক্ষমতায় চলে এসেছে। সুজাতা দাবি করেন, বাংলায় এখন বর্গিরা আসছে।অথচ, কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের কৃষকরা কঠিন ঠান্ডার মধ্যে দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তাঁদের সঙ্গে দেখা করার সময় নেই। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিছনে লাগার জন্য বাংলায় আসছেন। ওরা ভিতু বলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মুখে আনতে পারেনা। শুধু ভাইপো বলে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেয়। সাহস থাকলে অভিষেকের নাম মুখে এনে দেখাক। তাহলে বুঝবো ওঁরা বাপের ছেলে।

বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে সুজাতা আরও বলেন, বাইরে থেকে উড়ে আসা বিজেপির পরিযায়ীরা নেতা মন্ত্রীরা আদানি, আম্বানিদের টাকায় বাংলায় এসে পাঁচ তারা, সাত তারা হোটেলে ওঠেন। তার বিনিময়ে আদানি, আম্বানিরা কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ পায়। পরে সেই টাকা মেরে দিয়ে মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়ার মত ধনকুবেররা নিরাপদে বিদেশে পালিয়ে যায়। খণ্ডঘোষের জনসভা মঞ্চ থেকে সুজাতা মণ্ডল খাঁ সহ অন্য সকল তৃণমূল নেতারা এদিন দাবি করেন বিজেপি নেতারা বাংলা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন দেখুন। তাতে লাভ কিছু হবে না। বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী করবেন।