ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক

306

রায়গঞ্জ: মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য রায়গঞ্জে দুটি ক্যাম্পাসের মধ্যে একটি ক্যাম্পাসের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আব্দুলঘাটায় অবস্থিত আরেকটি ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। গত বছর এমবিবিএস ১০০ জন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিলেন। এবার দ্বিতীয় বছরের অনুমোদনের অপেক্ষা। তাই আব্দুলঘাটায় নির্মীয়মান ক্যাম্পাসের অগ্রগতি। কি পরিমাণ চিকিৎসক ও অধ্যাপক রয়েছে। দ্বিতীয় বর্ষের জন্য নতুন চারটি ফ্যাকাল্টি ও কয়জন চিকিৎসক রয়েছেন সেই সমস্ত খোঁজ খবর নিলেন এম সি আই কর্তারা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের ঘরে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল খোঁজখবর নিলেন।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার পাল বলেন, ‘কোভিড পিরিয়ডের জন্য এম সি আইয়ের প্রতিনিধি দল ফিজিক্যালি না এসে দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এম সি আই অ্যাসেসমেন্ট হল। তাদের যা কয়দি ছিল আমরা তার যথোপযুক্ত উত্তর দিয়েছি আশা করছি আমরা পাশ করতে পারব আর এই আশা রেখেই যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা রিপোর্ট হাতে পাচ্ছি ততক্ষণ কোন মন্তব্য করব না। এদিন তিনজনের প্রতিনিধি দল আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল আমরা যথাযথ উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি।‘

- Advertisement -

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ক্যাম্পাস রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ঠিক পাশে প্রায় দশ একর এলাকার ওপর জুনিয়র ডাক্তারদের চারতলা হোস্টেল। সাততলা নার্সদের আবাসন। পাশাপাশি শহরের অদূরে আব্দুলঘাটা ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমি ভবন সাততলা। আউটডোর দশতলা। ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা জায়গা সাত তলার হোস্টেলের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপকদের সাততলা আবাসন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে। সেই সঙ্গে অশিক্ষক কর্মচারীদের সাততলা আবাসন। অন্যদিকে, অ্যানিমেল হাউস এবং গ্যারেজ ভবন তৈরি করার প্রক্রিয়া শেষের পথে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় বর্ষে এমবিবিএস পড়ুয়াদের ভর্তি ও প্রথম বর্ষে নিট পাশ করা ১০০ জন মেডিকেল পড়ুয়া ভর্তি হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও সবটা নির্ভর করছে এনসিআই এর ওপরে। বর্তমান রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে তৎকালীন রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলে। পর্যাপ্ত আসন বিশিষ্ট এই লাইব্রেরিতে প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকার বই ও মেডিকেল জার্নাল কেনা হয়েছে।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রির বিভাগীয় প্রধান দেবেশ রায় বলেন, ‘প্রথম বর্ষে এমবিবিএস পড়ুয়াদের জন্য অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি। দ্বিতীয় বর্ষে যেটা হবে সেটা প্যাথোলজি, ফার্মাকোলজি, মাইক্রোবায়োলজি ও ফরেনসিক্যাল স্টেটমেন্টস।‘

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের পুরনো ভবনে অত্যাধুনিক মানের ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি রয়েছে। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মেডিকেল শিক্ষার নানা উপকরণও কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক মাসের মধ্যেই প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়ারাও বইপত্র সহ উপকরণ পেয়ে যাবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।

এদিন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে সমস্ত বিভাগের প্রধান চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন এমসিআই এর তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল। যদিও এদিন ষাট জন চিকিৎসক ও অধ্যাপক অনুপস্থিত ছিলেন বলে মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে।