ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় মেহবুবা

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : মাধ্যমিকে রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা না পেলেও উত্তর দিনাজপুর জেলায় মেয়েদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করেছে মেহবুবা আলি। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮১। এবার মাধ্যমিকে আরও ভালো ফলের আশা করেছিল সে। কিন্তু সেই আশাপূরণ না হওয়ায় কিছুটা ভারাক্রান্ত মেহবুবা। আগামীদিনে চিকিৎসক হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করতে চায় সে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখছে সে। এই ব্যাপারটি তার মনে যথেষ্ট দাগ কেটেছে। তাই চিকিৎসক হয়ে গরিব মানুষের সেবা করতে চায় সে।

রায়গঞ্জের পশ্চিম কর্ণজোড়া এলাকায় বাড়ি মেহবুবার। কর্ণজোড়া হাইস্কুলের ছাত্রী সে। এই স্কুলেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় মেহবুবা। তার সাফল্যে স্বভাবতই খুশি বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। মেয়ের সাফল্যে খুশি বাবা খুরশেদ আলি। তিনি বন্ধ হয়ে যাওয়া রায়গঞ্জের স্পিনিং মিলের কর্মী। বর্তমানে হেমতাবাদে অবর বিদ্যালয় কার্যালয়ে কর্মরত। দুই মেয়ের মধ্যে ছোট মেহবুবা। বড় মেয়ে পড়াশোনা করে। তবে স্পিনিং মিলের কর্মী হিসাবে যে বেতন পান, তা দিয়ে দুই মেয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসার কীভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। বাবা পড়াতে পারবেন কি না সেই দুশ্চিন্তায় মেহবুবাও। ইতিমধ্যে রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত, মন্ত্রী গোলাম রব্বানি এবং সভাধিপতি কবিতা বর্মন সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়ে গিয়েছেন তাকে।

- Advertisement -

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি বিশেষ আগ্রহ তার। বাড়ির পাশে একটি বেসরকারি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর কর্ণজোড়া হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে সে ভরতি হয়। প্রতিটি ক্লাসে বরাবরই প্রথম হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিল সে। যেকোনও বিষয়ে ওপর তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় যথেষ্ট পারদর্শী সে। বিদ্যালয় জীবনে প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান দখল করেছে সে। সেই ধারাকে বজায় রেখে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষাতেও সাফল্য মিলেছে। বাংলায় ৯৮, ইংরেজিতে ৯২, অঙ্কে ৯৯, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৭, জীবনবিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৯৮ এবং ভূগোলে ১০০ পেয়েছে সে। মেহবুবা জানায়, আমার সাফল্যের পিছনে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। ভবিষ্যতে নিজেকে একজন চিকিৎসক হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে অল ইন্ডিয়া জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নেব। কর্ণজোড়া হাইস্কুলেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাই।

স্কুলের টিআইসি পঞ্চব্রত কুণ্ডু বলেন, বরাবরই মেধাবী মেহবুবা। আমরা চাই আমাদের স্কুলেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করুক সে। গত বছর ওর দিদি আমাদের স্কুল থেকে বিজ্ঞান নিয়ে পাশ করেছে। আমরা খুবই গর্বিত। ছোট থেকেই মেধাবী ছিল। আমরা চাই ও একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে গ্রামের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করুক।