করোনার জেরে বন্ধ আলিপুরদুয়ারের মেজবিলের রাসমেলা

285

সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: কোচবিহারের রাসমেলার পরই আলিপুরদুয়ারের মেজবিল রাসমেলার অবস্থান। করোনার কারণে এবার কোচবিহারের মতো বন্ধ মেজবিলের ঐতিহ্যবাহী এই রাসমেলা। উদ্যোক্তাদের দাবি, এবারই প্রথম এই রাসমেলা বন্ধ রয়েছে। তবে মেলা না হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চারদিনের রাস উৎসব পালিত হবে মেজবিলে। এজন্য কমিটি গঠিত হয়েছে। চলছে রাসপুজোর প্রতিমা তৈরির কাজ। বর্তমান পরিস্থিতিতে মেলা এড়িয়ে কিভাবে সব কিছু করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোক্তারা ঘনঘন বৈঠকও করছেন।

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের মেজবিল বাস স্টপেজের পাশেই বিস্তীর্ণ মাঠে রাসমেলা হয়। এবার এই মেলার ৫১তম বর্ষ। স্থানীয় কমিটি ও আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মেজবিলের রাসমেলা পরিচালিত হয়। গত বছরও এই মেলা ১০ দিন চলেছিল। এখানে উত্তরবঙ্গের নানা জেলার ব্যবসায়ীরা আসেন। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদেরও এই মেলায় উপার্জন হত। আলিপুরদুয়ার জেলায় আর কোথাও বড় রাসমেলা না হওয়ায় মেজবিলের মেলায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামত। কিন্তু এবারের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে কয়েকদিনের রাস উৎসব পালিত হলেও মেলা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

- Advertisement -

প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগেই মেজবিলে রাসমেলার প্রস্তুতি শুরু হয়। মেলা না হলেও এবারও অনেক আগেই পুজো কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন হরিশ বর্মন ও ফুলেশ্বর বর্মন। যুগ্ম সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন যথাক্রমে শ্যামল বর্মন, অজয় কুমার বর্মন ও সহদেব বর্মন। সভাপতি হরিশ বাবু বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় এবার মেলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এলাকার ঐতিহ্য মেনে রাস উৎসব হবে।’ তিনি জানান, আগামী ২৯ নভেম্বর নিয়ম মেনে রাসপুজো হবে। রাসচক্র ও প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয় দিন স্থানীয় স্তরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তৃতীয় দিন নিয়ম মেনে কালীপুজো হবে। শেষের দিনও স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান হবে। তবে সব কিছুই স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা হবে বলে কমিটির অন্যান্য প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মেজবিলের এই রাসপুজো ও মেলার পিছনেও ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। প্রায় দেড়শো বছর আগে জঙ্গলাকীর্ণ এই এলাকায় বাঘের ভয় ছিল। তখন ‘মেচ’ জনজাতির মানুষ বাস করতেন। এখানে ছিল বিশাল একটি বিল বা জলাশয়। তখন থেকে বাঘের পিঠে বসা ‘মেচ’ জনজাতির এক দেবতার পুজো হয়ে আসছে। এই লৌকিক দেবতার নাম অনুযায়ী এলাকার নাম পরবর্তীতে হয় মেজবিল। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা তথা পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান মৃত্যুঞ্জয় সরকার বলেন, ‘এই দেবতার পুজোকে কেন্দ্র করেই ৫০ বছর আগে রাস উৎসব ও মেলা শুরু হয়। এতদিনের এই মেলা আগে কখনও বাতিল হয়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী এবার মেলা বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকরী হলেও মন থেকে তা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।’