উন্মুক্ত সীমান্ত পাচারকারীদের করিডর, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবি

1133

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: উন্মুক্ত সীমান্তগুলি পাচারকারীদের করিডর। এইসব খোলা জায়গা দিয়ে সহজেই বাংলাদেশে গোরু সহ বিভিন্ন জিনিস পাচার করে দেওয়া হয়। বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে তখন তো কোনওক্রমে নদীতে গরুর পাল নামিয়ে দিতে পারলেই গুটিচিৎ। নদী সাঁতরে গোরু ওপারে উঠতে না উঠতেই এপার থেকে একটা হ্যালো করে দিলেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই গোরু নিয়ে যায় ওপারের পাচারকারীরা।

এমন অভিযোগ অবশ্য নতুন কিছু নয়। তাই চোরাচালান বন্ধ করতে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন উন্মুক্ত অর্থাৎ খোলা সীমান্তগুলিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবি উঠেছে। কারণ বিভিন্ন সময়ে এইসব খোলা সীমান্ত দিয়ে পাচারকারীরা বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। বিশেষকরে খোলা সীমান্তগুলি গোরু পাচারের করিডর বলেও মনে করা হয়। মুহূর্তেই গোরু বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, উন্মুক্ত সীমান্তগুলি পাচারকারীদের সবচাইতে পছন্দের জায়গা। তাই অনেকেই মনে করছেন, সীমান্ত এলাকার সর্বত্র কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা দেওয়া থাকলে চোরাচালান অনেকটাই কমবে।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, মেখলিগঞ্জ ব্লকের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজানের মতো নদীগুলি। অনেক স্থানে নদী এমনভাবে বয়ে গিয়েছে যে নদীর অর্ধেক অংশ বাংলাদেশে এবং বাকি অর্ধেক ভারত ভূখণ্ডের অধীনে রয়েছে। এইসব নদী সংলগ্ন দুর্গম এলাকার কারণে অনেক স্থানে এখনও অবধি কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ হয়নি। মেখলিগঞ্জ ব্লকের নিজতরফ, কুচলিবাড়ি সহ বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের তিস্তা নদী এলাকা এবং চ্যাংরাবান্ধার ধরলা নদী এলাকা দিয়েও ইতিপূর্বে পাচারের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের ধরলা নদীর তীরবর্তী তিন কিলোমিটার অংশও উন্মুক্ত রয়েছে। অভিযোগ ইতিপূর্বে উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে চুপিসারে পাচারকারীর দল ভারতে ঢুকে গোরু নিয়ে ফের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে। মাঝেমধ্যে এইসব পাচারকারীরা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ধরাও পড়ছে। তবে শুধু খোলা সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচারই নয়, এখান দিয়ে যে কোনও সময় বড় ধরনের অপরাধ ও নাশকতামূলক কাজকর্মও করার আশঙ্কাও করেন সীমান্তবাসী। তাই তাঁরা সকলেই মনে করছেন, উন্মুক্ত সীমান্তগুলিও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হোক। এটা হলে বিভিন্ন প্রকার চোরাচালান সহ গোরু পাচারও অনেকটা কমবে। বিএসএফের উত্তরবঙ্গের আইজি সুনীল কুমার ত্যাগী অবশ্য জানিয়েছেন, মেখলিগঞ্জ ব্লকের কয়েকটি জায়গায় উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। নানা কারণে সেইসব স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। যেহেতু আন্তর্জাতিক সীমান্ত তাই এইবিষয়ে প্রয়োজনে বাংলাদেশের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। এইবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।