লক্ষী ও কালী প্রতিমা গড়তে ব্যস্ত মেখলিগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা

262

শুভ্রজিৎ বিশ্বাস, মেখলিগঞ্জ: দুর্গাপুজোর বরাত এবার আগের মতো মেলেনি। তাই লক্ষী ও কালী প্রতিমা গড়তে ব্যস্ত মেখলিগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা।

কোচবিহার জেলার সীমান্ত ঘেঁষা মেখলিগঞ্জ। ব্লকের ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হলেও দুর্গাপুজোর আকর্ষণের মূল কেন্দ্র বিন্দুতে থাকে মেখলিগঞ্জ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুর্গা পুজোর অনেক আগে থেকেই প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন মেখলিগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা। এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে পরিস্থিতি অন্য বছরের তুলনায় আলাদা। প্রতিবছর যে পরিমাণ দুর্গা প্রতিমা তৈরির বরাত মেখলিগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা পান এবছর তা নেই। তাই লক্ষী ও কালী প্রতিমা তৈরিতেই মনোনিবেশ করেছেন তাঁরা। মৃৎশিল্পীরা জানান, একদিকে যেমন মানুষ করোনা পরিস্থিতির কারণে পুজো কমিয়েছে অন্যদিকে তেমনি খারাপ আবহাওয়া ও বৃষ্টি তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। গোদের ওপর বিষফোঁড়া হল প্রতিমা তৈরির জন্য যেসব কাঁচামাল দরকার হয় তার মূল্যবৃদ্ধি। তাঁরা জানান, এবছর দুর্গাপুজোর বরাত আগের মতো না পেলেও লক্ষীপুজো ঘরে ঘরে ও কালীপুজো বেশিরভাগ জায়গায় হয় বলেই লক্ষী ও কালী প্রতিমা তৈরিতেই জোর দিয়েছেন তাঁরা।

- Advertisement -

মেখলিগঞ্জের মৃৎশিল্পী সন্তোষ পাল জানান প্রতিমা তৈরির খর আগে ৩ টাকা আঁটি পাওয়া যেত যা বর্তমানে ৭ টাকা আঁটিতে তাদের কিনতে হচ্ছে। তারকাটার দাম ৬০ টাকা কেজি থেকে ৭০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। দাম বেড়েছে সুতলি, কাঠ, মাটি, রং সহ সমস্ত জিনিসের। অন্যদিকে, একটি দুর্গা প্রতিমা তৈরিরও বরাত মেলেনি তাঁর। দুর্গাপুজো ভালো না গেলেও ঘরে ঘরে লক্ষী পুজো হবে বলেই তাঁর ধারণা। তাই লক্ষী প্রতিমা তৈরি শুরু করেছেন তিনি। কিন্তু সেখানেও বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খারাপ আবহাওয়া। মেখলিগঞ্জের আর এক মৃৎশিল্পী ক্ষিতীশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মোট ৪টি দুর্গা প্রতিমা তৈরির বরাত পেয়েছেন তিনি। যার মধ্যে ৩টি বাড়ির পুজো ও ১টি সর্বজনীন কমিটির পুজো। তাই এখন থেকেই কালী প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তিনি।