ভালো প্রার্থী দিয়ে ভোট পাক বামেরাও, চাইছে তৃণমূল

196

চ্যাংরাবান্ধা: বামেদের ঝুলিতেও ভোট পড়ুক। তাদের প্রার্থীও চাঙ্গা হোক। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে মনে মনে নাকি এমনটাই চাইছেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের একাংশ। তাঁরা মনে করছেন, একদা বামেদের লালদুর্গ বলে পরিচিত মেখলিগঞ্জে বামেরা ভালো ভোট পেলে তৃণমূলের জয় পেতে সুবিধা হবে। জয়ের মার্জিন বাড়বে। তাই প্রার্থীও চাঙ্গা দরকার। তাঁদের ধারণা, বামেদের ভরাডুবির কারণে তাঁদের অধিকাংশ কর্মী-সমর্থক বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিলেন। বর্তমানে সেইসব মানুষের অনেকেরই আবার ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় বামেরা হেভিওয়েট প্রার্থী দাঁড় করাতে পারলে পাশাপাশি কোমড় বেঁধে লড়াইয়ের ময়দানে থাকলে তাঁদের সমর্থকগণও বেশি ভরসা পাবেন। এই অবস্থায় বামেরা তাদের নিজস্ব ভোট যত বেশি নিজেদের ঝুলিতে ফেলতে পারবে তৃণমূলের লাভ তত বেশি হবে। যদিও বিধানসভা ভোটের আগে এইসব বিষয় নিয়ে কোনও ধরনের মন্তব্য করতে নারাজ তৃণমূল নেতারা। তাঁদের অবশ্য বক্তব্য, তৃণমূল একাই একশো। কারণ মানুষ তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন। এবার জয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে বলেও তাঁরা আশাবাদী।

গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারী। যদিও দলবদলের খেলায় তিনি এখন তৃণমূলের নেতা। ওই সময় পরেশবাবু পেয়েছিলেন ৬৮,১৮৬ টি ভোট। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অর্ঘ্যবাবুর ঝুলিতে পড়েছিল ৭৪,৮২৩টি ভোট। অর্ঘ্যবাবু জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। বিজেপির দধিরাম রায় ২৩,৩৫৫টি ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন। রাজ্যে প্রথমবার তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও ওই সময় মেখলিগঞ্জ বিধানসভা আসনটি বামেরা ধরে রেখেছিলেন। তৃণমূলের দাবি, তাদের পরিচালিত সরকারের আমলে এই কেন্দ্রেও বহু উন্নয়ন হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্প মানুষের উপকারে এসেছে। তাই আরও বেশি সংখ্যক মানুষ স্বেচ্ছাতেই তৃণমূল প্ৰার্থীকে ভোট দেবেন। এতে গতবারের চাইতে অনেক বেশি ভোটে ঘাসফুলের প্রার্থী জয়লাভ করবেন বলে তাদের আশা। এই অবস্থায় তাদের একাংশ চাইছে, বামেরা যেন ময়দানে থাকেন।

- Advertisement -

যদিও বিজেপির বক্তব্য, গত বিধানসভা ভোটের ফলে তাদের প্রার্থী তিন নম্বরে থাকলেও এবার এক নম্বরে থাকবে বলে আশাবাদী। কারণ গত লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই এখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে। পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করে একাধিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। দলে দলে মানুষ বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। এছাড়াও গোটা রাজ্যেই বিজেপির হাওয়া বইছে। তাই মেখলিগঞ্জেও বিজেপির জয় নিশ্চিত বলে তাদের আশা।

অপরদিকে, বামেরাও অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে নেই। তাদের বক্তব্য, তাদের সম্পর্কে একটা সময়ে কিছু মানুষের ধারণা একটু অন্যরকম হলেও এখন কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারছেন যে বামেরাই সঠিক। তাই বামেদের ভালো ফলে হবে বলে তারাও আশাপ্রকাশ করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি উদয় রায়, বিজেপির উত্তর ও দক্ষিণ মণ্ডল সভাপতি বিশ্বনাথ শীল এবং দধিরাম রায়, বামফ্রন্টের নেতা তথা সারা ভারত ফরোয়ার্ড ব্লকের মেখলিগঞ্জ লোকাল কমিটির সম্পাদক অজিত বর্মন সকলেই অবশ্য নিজেদের দলের ভালো ফলের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন।