শুভেন্দু-মুকুল-দিলীপের সভায় হাজির নন্দীগ্রামের ‘শহিদ’ পরিবারের সদস্যরা

293

নন্দীগ্রাম (পূর্ব মেদিনীপুর): রাজ্য রাজনীতিতে সরগরম নন্দীগ্রাম, নেতাই। শুক্রবার ফের নন্দীগ্রামে বিজেপির যোগদান মেলা কর্মসূচি ছিল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর। শুভেন্দুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষের মতো হেভিওয়েট বিজেপি নেতারা।

নন্দীগ্রামের বিজেপির সভায় যোগ দিলেন একাধিক ‘শহিদ’ পরিবারের সদস্য। শুক্রবার এই সভায় হাজির থাকার কথা শুভেন্দু, দিলীপ, মুকুল ও কৈলাসের। এদিন সভাস্থলে শহিদ পরিবারের সদস্যদের আলাদা বসার জায়গা করা হয়েছিল। সমস্বরে তাঁরা জানান, দাদা যেখানে থাকবেন আমরাও থাকবো সেদিকেই।

- Advertisement -

শহিদ পরিবারের সদস্যরা জানান, নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পর থেকে গত ১৪ বছর ধরে নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারগুলির পাশে থেকেছেন। চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। ফলে দাদার হাত ছাড়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিন শুভেন্দু বলেন, ‘সভা চলাকালীন ঢিল মারা হয়েছিল। সিপিএম কোনওদিন তৃণমূলের কোনও সভায় ঢুকে ঢিল মারেনি। কোনওদিন দেখিনি। আমি থাকছি। এখানকার প্রতিটা মানুষ বাড়ি পৌঁছলে তবেই আমি বাড়ি যাব। নিশ্চিন্তে যান।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আজ সকলকে শুধু ধন্যবাদ জানাব। ১৯-এ জবাব দেব ১৮-র।’

এদিনের সভামঞ্চ থেকে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘টাকাপয়সা লুঠ চলছে। বাংলায় সুশাসন আনতে গেলে বিজেপিকে আনতে হবে। হাতজোড় করে ভোট চাইছে। একবার বিজেপিকে এনে দেখুন। যুবকদের চাকরি দিতে চাই আমরা। পঞ্চায়েত ভোটে মানুষ ভোটই দিতে পারেননি। এখানে মানুষ ভাতা পাচ্ছে না। আয়ুষ্মান বিমা পাচ্ছেন না। শৌচালয়ের টাকা পাচ্ছে না। এখানে কেন্দ্রীয় সাহায্য পেতে গেলে বিজেপিকে ক্ষমতায় আসতে হবে।’ তিনি বলে, ‘আমি দিদিমনিকে বলতে চাই, যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন পুলিস দিয়ে ভাঙিয়ে সবাইকে যোগ দেওয়া করিয়েছিলেন। আপনিও বিশ্বাসঘাতকতার দিন ভুলে গিয়েছেন। শুভেন্দুর সঙ্গে কয়েকজন নেতা যোগ দিতে চেয়েছিলেন, তাঁদের বাড়িতে পুলিস পোস্ট করা হয়েছে। বাথরুমেও পুলিস যাচ্ছে সঙ্গে।’

এদিন দিলীপবাবু বলেন, ‘আমি আজ এখানে অতিথি। এখানকার আসল নায়ক শুভেন্দুদা। করোনার চেয়েও ভয়ঙ্কর ভাইরাস তৃণমূল কবে যাবে বলে দিচ্ছি। এ বছরের ২০ মে-র পর থেকেই চলে যাবে। ভ্যাকসিন এসে গেছে। ২০০ আসনে জয়লাভ করব। সোনার বাংলা গড়ব। এখানে হাজার হাজার মানুষ যাঁরা আন্দোলন করেছিলেন দাম পান না। আমি সকলকে বিজেপিতে স্বাগত জানাচ্ছি। নন্দীগ্রামের সৈনিকরা রাত জেগে যাঁরা পরিবর্তন এনেছিলেন। আজ তাঁরাই সম্মান পান না। রক্ত দিয়ে ঘাম দিয়ে যাঁরা টিএমসি-কে তৈরি করেছিলেন, আজ তাঁরা বিজেপি-র পাশে। বিজেপির সঙ্গে তাঁরা সোনার বাংলা গড়তে চান।’

কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘মাফিয়া শেষ করতে, সোনার বাংলা তৈরি করতে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রয়োজন। আমি অনেক সভা দেখেছি। এমন গরম সভা দেখিনি। এখানে লাখ লাখ মানুষ রয়েছে। বিনয় মিশ্রর সঙ্গে ভাইপোর যোগ রয়েছে। ভাইপোকে জেলে যেতে হবে। ওদের হটাতে হবে। এখানে থাকার অধিকার নেই। টিএমসি গোরু মাফিয়া, আমার কাছে ভিডিয়ো, ছবিসহ প্রমাণ রয়েছে। বাংলায় কয়লা মাফিয়া টিএমসি। সোনার বাংলা বানানোর বদলে কোলার বাংলা হয়ে গেছে। আমরা সোনার বাংলা বানাব। এখানে যত লোক আছেন, তার চেয়েও বেশি মানুষ অপেক্ষা করছে। এটা প্রমাণ করে টিএমসি চলে যাচ্ছে, বিজেপি আসছে।’

গতবছর জানুয়ারিতে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার কাছে বাধা পান দিলীপ ঘোষ। ঠিক একবছর পর, সেই নন্দীগ্রামেই সভা করছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন নন্দীগ্রামের তৎকালীন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এর প্রেক্ষিতে আজকের জনসভায় একমঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষ কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।