দুই বাংলাদেশি ছিটের ভারতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ডাক

229

মেখলিগঞ্জ: তিনবিঘা শহিদ দিবসের আগে নতুন করে আবার তিনবিঘাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন উসকে দিল তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি। শুক্রবার মেখলিগঞ্জ মহকুমা শাসককে বাংলাদেশের আঙ্গরপোতা ও দহগ্রাম ছিটকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত সহ ছয় দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিল তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি।

১৯৭১ সালে ইন্দিরা মুজিব চুক্তিতে আঙ্গরপোতা ও দহগ্রামের জন্য তিনবিঘা করিডর বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ ঘেরা কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষ গর্জে ওঠেন। কুচলিবাড়ি সংগ্রাম কমিটি গঠন করে তিনবিঘা করিডর হস্তান্তর বন্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি নামে আরও একটি সংগঠন আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলনে তিনজন শহিদ ও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হলেও ১৯৯২ সালের ২৬ জুন তিনবিঘা চুক্তি কার্যকর হয়। তিনবিঘা হস্তান্তর হলেও বেশকিছু দাবিতে কুচলিবাড়ি সংগ্রাম কমিটি আন্দোলন জারি রাখে। শনিবার তিনবিঘা আন্দোলনের শহিদ দিবস। তার আগে এদিন তিনবিঘা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন আন্দোলনের ইঙ্গিত দিলেন কুচলিবাড়ি সংগ্রাম কমিটি। আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম’কে ভারত অন্তর্ভুক্ত সহ ছয় দফা দাবিতে মহকুমা শাসককে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি এইনিয়ে আন্দোলনের নামবেন বলে জানান সংগ্রাম কমিটি নেতা উৎপল রায়, ভূপেন রায়, কৃষ্ণকান্ত রায়, মনোরঞ্জন সরকার, রসিদুল ইসলাম প্রমুখ।

- Advertisement -

তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক উৎপল রায় জানান, ১৯৫৮ সালের নেহেরু-নুন চুক্তি মোতাবেক তাঁরা আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম’কে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি জানান, ছিটমহল বিনিময়ে ভারত সরকার ১০ হাজার একর জমি বাংলাদেশকে বেশি দিয়েছিল। সেইমতো আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম ছিট ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা। কিন্তু ভারত সরকার অজানা কারণে গুরুত্ব দেয়নি। তাই ফের সেই দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনবিঘা করিডর হস্তান্তর হওয়ার পর কুচলিবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় বেশকিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেই সমস্যা নিয়েও সরব হয়েছে সংগ্রাম কমিটি। এই বিষয়ে উৎপল রায়ের বক্তব্য, আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম খোলা সীমানা হওয়ায় গোরু সহ চোরাচালানের করিডরে পরিণত হয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তিনবিঘা আন্দোলনের তিন শহিদের পরিবার সহ যাঁদের পরিবারের সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তাঁদের পরিবারকেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। কুচলিবাড়ি সহ মেখলিগঞ্জ কৃষি ভিত্তিক এলাকা হওয়ায় কুচলিবাড়িতে হিমঘরেরও দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি মেখলিগঞ্জ-কাঙ্গরাতলি হয়ে চেনাকাটা মাথাভাঙ্গা করিডর করারও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।