লকডাউনে সমস্যার জেরে মহকুমা শাসককে স্মারকলিপি ক্ষৌরকার সমিতির

261

তুফানগঞ্জ: লকডাউনে কাজ বন্ধ খাদ্যাভাবে পড়েছেন। লকডাউনে বাদ পড়েছে ক্ষৌরকর্ম। কাজ হারিয়ে বেগতিক তুফানগঞ্জের কয়েকশ নাপিত। ক্ষৌরকর্ম করাতে না পেরে সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষও। নাপিতদের সমস্যা সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবী উঠছে তুফানগঞ্জে। বুধবার এই নিয়ে তুফানগঞ্জের মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন নাপিতরা। লকডাউনের জেড়ে প্রায় দেড় মাস থেকে বন্ধ রয়েছে চুল দাড়ি কাটার কাজ। উপার্জন প্রায় বন্ধ। যাও ছিল তা ফুড়িয়ে গিয়েছে। যে কারণে পরিবারের সঙ্গে অর্ধাহারে দিন কাটছে অনেকের।

বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি তোলা হবে বলে জানিয়েছে তারা। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকেই। দোকান বন্ধ থাকায় উপার্জন নেই নাপিতদের। ভরসা ছিল র্যাশন ব্যবস্থার ওপর। তারা ভেবেছিল রেশন থেকে যা মিলবে তা দিয়েই কোনওরকমে সংসার চালানো যাবে। তবে বাস্তবটা কঠিন। রেশন থেকে পাওয়া চাল আটা শেষ হয়ে গিয়েছে। সমস্যায় পড়েছে তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের নাপিতরা।

- Advertisement -

এ বিষয়ে পবন শীলশর্মা বলেন, ‘আমার বাড়িতে ৪ জন সদস্য। সকলের অন্নসংস্থানে একমাত্র ভরসা আমার নাপিতের কাজ। কাজ বন্ধ থাকায় সকলের অন্নসংস্থান করতে পারছি না। রেশনে যা পেয়েছি তা শেষ। দুদিন থেকে প্রায় অর্ধাহারেই দিন কাটছে। শুনছি লকডাউন আরও বাড়বে। লকডাউন বাড়লে চলবে কিভাবে ভেবে পাচ্ছি না।’  অন্য এক নাপিত জানান, ‘আমাদের দিকে তাকিয়ে লকডাউন কিছুটা শিথিল করলে উপকৃত হব। আমাদের সমস্যার বিষয়ে জানিয়ে এদিন স্মারকলিপি জমা দেওয়া হল মহকুমা শাসককে।’

ক্ষৌরকার সমিতির কো-কনভেনার ঠাকুরদাস শীল জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আমাদের সমস্যা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ইমেইল বার্তা পাঠানো হবে। তারই অঙ্গ হিসাবে এদিন তুফানগঞ্জের মহকুমা শাসককে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। যাতে ক্ষৌরকাজে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা সম্ভব হয়। লকডাউন সামান্য শিথিল হলে কাজ করে কোন রকমে সংসার চালানো যাবে। তুফানগঞ্জ মহকুমা শাসক দপ্তর সূত্রের খবর, ‘ক্ষৌরকারদের দেওয়া লিখিত আমরা পেয়েছি। বিষয়টি ওপর মহলে জানানো হবে। যা ব্যবস্থা নেওয়ার তারাই নেবেন।’