লকডাউনে সব বয়সের মানুষের মধ্যে অবসাদ বাড়ছে

496

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : লকডাউন যত বাড়ছে, ততই সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে অবসাদ। বাড়ছে অনিশ্চয়তা। চাকরি থাকবে কি না, মাইনে পাবে কি না, সংসার চলবে কী করে, পড়াশোনারই বা কী হবে, ওষুধ ফুরোলে কী করবে, চিকিৎসার কী হবে-এই ধরনের একাধিক প্রশ্ন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এসব ছাড়াও দিনভর ঘরবন্দি থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে বিভিন্নভাবে চাপ বাড়ছে। বেশিরভাগ ঘরেই আট থেকে আশি অবসাদে ভুগছেন। অনেকেই আবার অল্পতে রেগে যাচ্ছেন। লকডাউনে মনোবিদদের কাছেও এই ধরনের প্রচুর ফোন এসেছে। তাই লকডাউনে সাধারণ মানুষকে অবসাদ থেকে দূরে থাকতে যোগা, মেডিটেশন, টেলিভিশনে হাস্যকৌতুক কনটেন্ট দেখা, সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মনোবিদরা। এতে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হরমোনের নিঃসরণ হবে এবং স্ট্রেস, অবসাদ অনেকটাই কমবে বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। আর এই ধরনের অবসাদ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও আসে বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের প্রধান ডাঃ নির্মল বেরা। তিনি বলেন, লকডাউনের জন্য মানুষের মধ্যে অবসাদ বাড়ছে। অনেকের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা বাড়ছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এই রোগকে বয়স হিসেবে তিনভাগে ভাগ করেছেন। শিশু, কিশোর এবং পূর্ণবয়স্ক। শিশুর তালিকায় রাখা হয়েছে ১ থেকে ১৩ বছরের মানুষকে, কিশোরের তালিকায় রাখা হয়েছে ১৩ থেকে ১৮ বছরের মানুষকে এবং ১৮ বছরের পর থেকে বাকিদের পূর্ণবয়স্কের তালিকায় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কেস স্টাডি করার পর চিকিৎসকদের অভিমত লকডাউন চলাকালীন ১ থেকে ১৩ বছর বয়সের মানুষের চরিত্রের বেশ বদল এসেছে। তাদের মধ্যে খিটখিটে ভাব যেমন বেড়েছে, তেমনই তারা অস্থির হয়ে পড়ছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি মানুষের মধ্যে একটা অজানা ভয়, আতঙ্ক কাজ করছে। কেউ পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত হচ্ছে, কেউ জীবন নিয়ে আতঙ্কিত। বাকি ১৮ বছর এবং তার ঊর্ধ্বে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে লকডাউন সব থেকে বেশি প্রভাব ফেলেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। যাঁরা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছেন, তাঁদের চাকরির চিন্তা, যাঁরা দিনমজুর, তাঁদের সংসার চালানোর চিন্তা, এসব থেকে অবসাদ কাজ করছে। আর ভয়ানক পরিণতি হিসেবে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। তবে এসব থেকে বেরিয়ে আসার পথ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার জন্য ১ থেকে ১৩ বছর বয়সিদের প্রতিদিন মা-বাবার সঙ্গে একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করতে হবে। তাদের ক্রিয়েটিভ কার্যকলাপ অর্থাৎ ছবি আঁকা, নাচা, গান গাওয়া এসবের প্রতি ঝোঁক বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে বসে গল্প শোনাবেন। বিশেষ করে সন্তানের ছোটবেলার গল্প। অপরদিকে, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের যোগব্যায়াম করতে হবে, মোবাইল কম ঘাঁটতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। টিভিতে হাস্যকৌতুক জাতীয় জিনিস দেখতে হবে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের সপ্তাহে ৫ দিন নিয়ম করে ৪৫ মিনিট  যোগব্যায়াম করতে হবে। এতে স্ট্রেস অনেকটাই কমবে। এছাড়াও পরিবারের সঙ্গে সবসময় হাসিখুশি থাকতে হবে। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে।