চিকিৎসা নেই, ঘরবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী-ছেলে

147

রাজগঞ্জ: মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই। বাধ্য হয়ে কয়েক বছর ধরে তাঁদের বন্দি করে রাখছেন অসহায় বৃদ্ধ। ফুলবাড়ির পশ্চিম ধনতলার ওই পরিবারের প্রতিবেশীরাও চাইছেন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে পরিবারটি বেঁচে যেত।

রাজগঞ্জের ফুলবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম ধনতলার বৃদ্ধ গোবিন্দ গোপাল বিশ্বাসের স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে সংসার। ফুলবাড়ি বাইপাস মোড়ে ছোট চায়ের দোকান করে কোনওরকমে তাঁর সংসার চলে। গোবিন্দবাবু জানান, স্ত্রী গিরিবালা বিশ্বাস (৫৫) প্রায় আট বছর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। চায়ের দোকান করে কোনওরকমে সংসার চালানোর পর সাধ্যমতো চিকিৎসা করানো হলেও সুস্থ হয়নি। এরপর তিন বছর আগে একমাত্র ছেলে বিকাশ বিশ্বাসও (৩৫) মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। আর্থিক সমস্যার জন্য ছেলেরও চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বিভিন্ন জনের দরজার কড়া নাড়লেও সাহায্য মেলেনি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। তাই স্ত্রী ও ছেলেকে ঘরবন্দি বা শেকলবন্দি করে রাখছেন তিনি।

- Advertisement -

গোবিন্দবাবুর কথায়, স্ত্রী এতটাই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন যে গোটা বাড়িটা তছনছ করে ফেলছেন। বাড়িতে কেউ ঢুকলেই তেড়ে আসেন। তাই ভয়ে তিনিও বাড়িতে ঢুকতে পারেন না। প্রতিবেশী নবীন রায় জানান, ওই দুই মানসিক ভারসাম্যহীনের অত্যাচারে প্রতিবেশীরাও অতিষ্ঠ। কিন্তু পরিবারটির অসহায় অবস্থার কথা ভেবে কেউ প্রতিবাদ করেন না। তাঁরাও চান সরকার বা কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে বৃদ্ধ তাঁর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করাতে পারতেন। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দিলীপ রায় জানান, ওই পরিবারের ব্যাপারে তাঁকে কেউ জানাননি। তবে খোঁজ নিয়ে সাহায্যের চেষ্টা করা হবে।