অর্থের অভাবে বন্ধ চিকিৎসা, শেকলে বাঁধা মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক

139

রায়গঞ্জ: ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই। তাই মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের পায়ে লোহার শেকল পরিয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হয়েছেন বাবা মা। ছেলের চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু জমিজমাও বিক্রি করেছেন তাঁরা তবুও সুস্থ হয়নি ছেলে। তাই আর চিকিৎসা করানোর প্রয়োজনীয় অর্থের জোগাড় করতে না পারায় শেকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন হতভাগ্য বাবা মা। এমনই অমানবিক দৃশ্য দেখা গেল রায়গঞ্জ ব্লকের বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শীষগ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের নাম বাপি রায়(২২)। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না বাবা খোকন রায়। ঘরে জমানো অর্থ ও কিছু জমি বিক্রি করে শিলিগুড়িতে ছেলের চিকিৎসা শুরু করলেও এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তাই অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতেই রেখে দিয়েছেন তাকে। বাড়ির বারান্দায় সারাদিন বসে থাকে বাপি। চলাফেরা করার সময় ভীষণ কষ্ট হয়। শেকল বাঁধা দুটি পায়ে কালশিটে পরে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, বাপির জীবনের প্রথম দিকটা এমন ছিল না। একটা সময় বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে যেত, গ্রামের মাঠে ফুটবল ও ভলিবল খেলত সে। কিন্তু বছর দশেক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মানসিক রোগ ধরা পড়ে তাঁর।

- Advertisement -

খোকনবাবু ছেলেকে সুস্থ করতে শিলিগুড়িতে জমানো অর্থ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। বছরের পর বছর শিলিগুড়িতে চিকিৎসা করালেও ছেলেকে পুরোপুরিভাবে সুস্থ করে তুলতে পারেননি। সামান্য কিছু জমি ছিল সেটাও বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্ত এখন আর সামর্থ্য নেই তাঁর। খোকন বাবু বলেন, ‘বাপির চিকিৎসা করাতে পারছি না বেশ কয়েক মাস ধরে। ফলে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গতকয়েক মাস ধরে পাড়াপ্রতিবেশীদের বাড়িতে ঢুকে জিনিসপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি একে ওকে ঢিল মারতে থাকে। তাই বাধ্য হয়েই তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি। সরকার এগিয়ে না আসলে ছেলেকে সুস্থ করতে পারব না। গ্রামবাসীরা বাপির চিকিৎসার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।’

পঞ্চায়েত কর্মী দীপক বর্মন বলেন, ‘আমরা চাই বাপি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। দুঃস্থ মানুষদের চিকিৎসার জন্য সরকারের প্রকল্প রয়েছে।’ স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা লক্ষী বর্মন বলেন, ‘বাপির আবার চিকিৎসা করানো যায় সে ব্যাপারে পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব। দিনের পর দিন পায়ে ভারী শেকলকে নিয়েই দিন কাটাচ্ছে এই অসহায় যুবক। শেকল ভেঙে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে হলেও আর্থিক অনটনে সবকিছু সহ্য করে চলেছে সে।’