মায়ের কষ্ট লাঘব করতে কুয়ো খুঁড়ছেন মেধাবী ছাত্রী, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

346

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: আর্থিক ক্ষমতা নেই। তাই নিজেই কুয়ো খোঁড়া শুরু করেছিলেন রানিগঞ্জের মেধাবী কলেজ ছাত্রী ববিতা সোরেন। ববিতার সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে রানিগঞ্জ ব্লক প্রশাসন। রবিবার ওই আদিবাসী ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন রানিগঞ্জের বিডিও অভিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। কুয়োটি পাকাপাকিভাবে তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা ববিতাকে সংবর্ধনা জানান। ববিতার পরিবারের সকলকে জবকার্ড দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে।

ববিতাদের বাড়িতে পানীয় জলের সমস্যা অনেকদিনের। অনেক দূর থেকে জল বয়ে নিয়ে আসতে হয় মা মীনা সোরেনকে। মায়ের কষ্ট লাঘব করতে নিজেই ২০১৯ সালের শেষদিক থেকে কুয়ো খোঁড়া শুরু করেন ববিতা। কিছুটা খোঁড়ার পরে কাজ বন্ধ করে দেন তিনি। বল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বক্তারনগর আদিবাসী পাড়ায় মা-বাবা ভাই ও দিদির সঙ্গে থাকেন ববিতা। তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে এমএ পাশ করেছেন। বর্তমানে গলসি থেকে বিএড করছেন।

- Advertisement -

লকডাউনের কারণে কলেজ বন্ধ। হাতে অফুরন্ত সময়। তাই সেই সময়কে কাজে লাগাতে ববিতা ফের শাবল, ঝুড়ি, কোদাল হাতে নিয়ে কুয়ো খোঁড়ার কাজ শুরু করেন। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে রানিগঞ্জ ব্লক প্রশাসন।

বিডিও অভিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি ববিতার বাড়ি গিয়েছিলাম। পাকাপাকিভাবে কুয়ো তৈরি করে দেওয়া হবে। এই পাড়ায় পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে আরও নলকূপ বসানো হবে।‘

বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আদিবাসী  পরিবারের মেধাবী কলেজ ছাত্রীর মানসিক দৃঢ়তা আমাদের সবাইকে অবাক করেছে। ওকে সংবর্ধনা জানাতে পেরে আমরাও সম্মানিত বোধ করছি। ভবিষ্যতে ওঁর পড়াশোনা ও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যতটা পারব সাহায্য করব।‘

ববিতা বলেন, ‘বিডিও ও বিধায়ক আমার বাড়িতে এসেছিলেন। আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাড়ির সকলের জবকার্ড তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার আমাকে আসানসোলে মহকুমা শাসকের অফিসে যেতে বলা হয়েছে। সেখানে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।‘