শুরুতেই ধাক্কা! নীতীশের মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ শিক্ষামন্ত্রীর

1983

অনলাইন ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টানা চতুর্থবার শপথ নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন নীতীশ কুমার। তাঁর মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রী মেওয়ালাল চৌধুরি। তিনদিন আগেই ১৪ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন বিহারে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে আপাতত মন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩। বিহারের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তিনিই সবচেয়ে ধনী ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা রয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়েও বিরোধী আসনে বসা রাষ্ট্রীয় জনতা দল মেওয়ালালের বিরুদ্ধে তিন বছরের পুরনো দুর্নীতির মামলাকে হাতিয়ার করে সরব হয়। তেজস্বীর দলের তরফে এও প্রশ্ন তোলা হয়, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেন মেওয়ালাল চৌধুরি সরকারে শামিল হলেন। আরও নানামহল থেকে এই প্রশ্ন তোলা হয়। ক্রমাগত চাপের মুখে পড়েই পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন মেওয়ালাল চৌধুরি।

- Advertisement -

ভাগলপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন সহকারী অধ্যাপক ও জুনিয়র বিজ্ঞানীদের পদে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৫ সালে তারাপুরের জেডি (ইউ) বিধায়ক মেওয়ালাল চৌধুরি বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিছুক্ষণের জন্য তাঁকে দল থেকেও বরখাস্ত করা হয়। তৎকালীন বিহারের রাজ্যপাল রামনাথ কোবিন্দের (বর্তমানে রাষ্ট্রপতি) কাছ থেকে অনুমোদনের পরে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে এখনও কোনও চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। তবে মেওয়ালাল চৌধুরি দাবি ছিল, মামলা দায়ের হওয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। তাঁর পালটা বক্তব্য ছিল, অনেক বিধায়কদের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। এদিকে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে শিক্ষা দপ্তরের মত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী করায় নীতীশকেও নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই নীতীশ কুমারই তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এদিন তেজস্বী যাদব টুইটে নীতীশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমি বলেছিলাম যে আপনি ক্লান্ত, তাই আপনার চিন্তাভাবনা এবং বোঝার শক্তি হ্রাস পেয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ওনাকে মন্ত্রী করা হল। শপথ নেওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগেরও নাটকটি রচিত হয়েছিল! দোষী আপনি, আপনি কেন ওনাকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন?