তনয় মিশ্র. মালদা : মালদা শহর ও তার আশেপাশে গজিয়ে উঠেছে ৪০ থেকে ৫০টি নার্সিংহোম। এর মধ্যে অনেকগুলোই বেআইনি। এই নার্সিংহোমের রোগী ধরার জন্য ৫০০০ টাকার অফার দেওয়া হয়েছে ট্যাক্সি ও মাতৃযান প্রকল্পের ড্রাইভারদের। রোগী ধরার এই প্রতিযোগিতায় রয়েছেন আশাকর্মীদেরও একটি অংশ। জড়িয়ে পড়েছেন চিকিত্সকরাও। এই চক্রের ফাঁদে পড়ে গ্রামগঞ্জের গরিব-দুস্থ রোগীরা বিপাকে পড়ছেন। কালিয়াচক থেকে মোথাবাড়ি, বাঙ্গীটোলা, রতুয়া, সামসী, আইহো সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই রোগীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নার্সিংহোমে। কালিয়াচক-২ ব্লকের বাঙ্গীটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাতৃযানের চালক ও কিছু  আশাকর্মী এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে ।

একজন মাতৃযান চালক একজন রোগীকে গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৪৫০ টাকা পান। আশাকর্মীরাও কিছু কমিশন পান। অভিযোগ উঠেছে, মালদায় শুরু হয়েছে রোগী ধরো অভিয়ান। বিষয়টি কিছুদিন আগে নজরে আসে বিএমওএইচ ডাঃ কৌশিক মিস্ত্রির। দুজন গাড়িচালক ও একজন আশাকর্মীকে চিহ্নিত করে তাদের শোকজ করেন। একজন মাতৃযান চালককে কয়েক মাসের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সাসপেন্ড করা হয়। কৌশিকবাবু বলেন, আমরা চাই মানুষের সচেতনতা বাড়ুক, একজন প্রসূতি কী কী সুবিধা পান সেটাই অনেক সময় তাঁরা জানতে পারেন না। এই প্রচার বেশি করা দরকার। আমরা রোগীদের ধরে ধরে বলার চেষ্টা করছি য়ে তারা যাতায়াতের ভাড়া সহ ছয় হাজার টাকারও বেশি সন্তান হলে পাবেন। কিন্তু বেশ কিছু রোগী দালালের খপ্পরে পড়ে নার্সিংহোমে চলে যাচ্ছেন। তার জন্য বেশি করে জনসচেতনতা প্রয়োজন।

শুক্রবার মালদা মেডিকেল কলেজের বেড থেকে এক আসন্ন প্রসবাকে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে প্রতারিত হন ওই দম্পতি। নার্সিংহোমের মোটা বিল মেটাতে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে ওই দম্পতিকে। কালিয়াচক-২ ব্লকের বাঙ্গীটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোসাইহাট গ্রামের রেশমা খাতুন ও শরিফ শেখ নামে ওই দম্পতির ঘটনায় বিভিন্ন স্তরের মানুষ দালালরাজের সরব হয়েেন। তবে প্রসূতির মা তারা বিবি ও দিদি নার্গিস খাতুন এই ঘটনার জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের চিকিত্সা ব্যবস্থাকেই দাযী করেছেন। তারা বিবির দাবি, আমরা তো প্রথমে হাসপাতালেই নিয়ে গিয়েছিলাম। মেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে বেডে কাতরাচ্ছে। আমরা সিজার করার জন্য বারবার বললেও নার্সরা আমাদের জানান এখন চিকিত্সক নেই। তাই আমরা বাধ্য হয়ে গয়না বেচে মেয়েকে বাঁচিয়েছি। আমার মেয়ে মালদা সদর হাসপাতালে থাকলে মারা যেত।

মালদা মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি অমিত দাঁ এই দালালদের রুখতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোনো রোগীকে মালদা মেডিকেলে রেফার করা হলে হোয়াটসঅ্যাপে তা জানিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কোন রোগীকে মেডিকেলে রেফার করা হচ্ছে তার একটা রেকর্ড মেডিকেলের হাতে থেকে যাচ্ছে। মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি অমিত দাঁ জানিয়েছেন এই মুহূর্তে জেলায় ৩০ থেকে ৪০টি বেসরকারি নার্সিংহোম আছে। এই নার্সিংহোমগুলোর সঙ্গে অনেক সময় ডাক্তাররাই জড়িত রয়েছেন। তার ফলে আমরা দালালরাজ বন্ধ করতে পারছি না। শুধু স্বাস্থ্যদপ্তরকে দিয়ে নয়, পুলিশ ও পুরসভার যৌথভাবে দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।