পরিযায়ীদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে প্রশ্নের মুখে নেতারা

176

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড পেতে হলে সরকারি ক্যাম্পে সশরীরে হাজির থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলা এবং আঙুলের ছাপ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভিনরাজ্যে যাওয়া লক্ষ-লক্ষ শ্রমিক। তাই স্বাস্থ্যসাথীর প্রচার করতে গিয়ে গ্রামেগঞ্জে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের। প্রশাসনের আধিকারিকরা বলছেন, যাঁরা বাইরে আছেন তাঁদের জন্য বিশেষ কোনও ব্যবস্থা করেনি সরকার। তবে তাঁদের পরিবারের যে কোনও একজন সদস্য বাড়িতে থাকলেই কার্ড হয়ে যাবে। ভিনরাজ্যে থাকা সদস্য বাড়িতে ফিরে জেলা শাসকের দপ্তর গিয়ে কার্ডে নিজের আঙুলের ছাপ যুক্ত করতে পারবেন। অনেকেই পরিবার সহ কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে গিয়েছেন। সেইসব পরিবার কীভাবে প্রকল্পের সুবিধা পাবেন তা বলতে পারছেন না প্রশাসনের আধিকারিকরা। সেই সংক্রান্ত কোনও গাইডলাইনও তাঁদের কাছে আসেনি বলেই জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। আবার কার্ডের সফটওয়্যারে যাঁদের আঙুলের ছাপ বা ছবি থাকছে না, প্রয়োজন হলে তাঁরা কীভাবে সুবিধা পাবেন সেটাও বলতে পারছেন না কেউ। আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা বলেন, সবাইকে যাতে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া যায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। যাঁরা বাইরে আছেন তাঁরা ফিরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।
২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু হয়েছিল। শুরুতে সিভিক ভলান্টিয়ার, আইসিডিএস কর্মীদের মতো নির্দিষ্ট ক্যাটিগোরির কিছু কর্মীর জন্যই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হত। সম্প্রতি রাজ্যের প্রত্যেকটি বাসিন্দাকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। সেইমতো দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ওই কার্ড দেখিয়ে বিনা পয়সায় চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে বলে জানিয়েছে রাজ্য। নতুন নিয়ম অনুসারে কার্ড হচ্ছে গৃহকর্ত্রী বা পরিবারের সব থেকে বয়স্ক মহিলার নামে। সেই কার্ডেই পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম নথিভুক্ত থাকছে। প্রত্যেকের ছবিও ছাপা হচ্ছে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়ে দিয়েছেন, কার্ডে নাম থাকলেও সফটওয়্যারে যাঁদের ছবি বা আঙুলের ছাপ থাকবে না তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। করোনার প্রকোপ কমতেই পরিযায়ী শ্রমিকরা ফের ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। দিনহাটার কুচনি গ্রামের বাসিন্দা মমিদুল মিয়াঁ পরিবার সহ হরিয়ানার একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। টেলিফোনে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসাথীর কথা শুনেছি। তবে কাজ ফেলে একগাদা টাকা খরচ করে ওই কার্ড করাতে বাড়িতে ফেরা সম্ভব নয়। আমাদের জন্য সরকার আলাদা বন্দোবস্ত করতে পারত। পাশের গ্রাম বাসন্তীর হাটের শ্যামল বর্মনও স্ত্রী, সন্তান সহ বেঙ্গালুরুতে টাইলস মিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি বলেন, আমরা তো বছরের বেশিরভাগ সময়ই বেঙ্গালুরুতেই থাকি। শুনেছি, এখানকার হাসপাতাল থেকেও আমরা পরিষেবা পেতে পারি। সেক্ষেত্রে কোনও ব্যবস্থা করে সরকার যদি এখানেই আমাদের কাছে কার্ডটা পৌঁছে দিত তাহলে সুবিধা হত। কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ান বলেন, যাঁরা পরিবার সহ ভিনরাজ্যে আছেন তাঁদের ব্যাপারটা আলাদা। তবে যাঁদের ছবি ও আঙুলের ছাপ যুক্ত হয়নি তাঁদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পদক্ষেপ করব।