একশো দিনের কাজে পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারকে কাজ

234
প্রতীকী ছবি

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : লকডাউনে কাজ হারানো জেলায় ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলিকে ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ দিচ্ছে প্রশাসন। অন্তত ৪০ শতাংশেরও বেশি কাজ দেওয়া হচ্ছে। ওই প্রকল্পে কাজ পেয়ে খুশি সকলে। গত ২০ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করে জলপাইগুড়ি জেলায় ইতিমধ্যে অন্তত ২২ হাজার মানুষকে কাজ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে এই কাজ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার রাখা হয়েছে।

২০১৯-২০২০ আর্থিক বছরে জেলায় শ্রমিক বাজেট ছিল ১২৬ কোটি টাকা। এই আর্থিক বছরে লকডাউনের কারণে বাজেট ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। মোট জব কার্ড ৪ লক্ষ ৩ হাজার ইশ্যু করা হলেও সক্রিয়ভাবে জব কার্ড গ্রাহক যাঁরা কাজে নাম লিখিয়েছেন তাঁদের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫২ হাজার। জেলার ৮০টি পঞ্চায়েতে কাজে নাম নথিভুক্ত আছে ৯ লক্ষ ৮৭ হাজার জনের। এতদিনজেলায় কাজ বন্ধ ছিল। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব মেনে, মাস্ক পরে, সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে কাজ করার অনুমতি মিলেছে সরকারিভাবে। বৃক্ষরোপণ,  সেচনালা, পুকুর খনন করা জল ধরে রাখা, নার্সারির মতো কাজগুলি ১০০ দিনের প্রকল্পে করা হচ্ছে। ডুয়ার্সের মাল মহকুমা, বিন্নাগুড়ি, বানারহাট এলাকায় আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের নামে জব কার্ড নেই। তাঁরা বাইরের রাজ্যে কাজ করেন। কিন্তু তাঁদের পরিবার অর্থকষ্টে ভুগছিলেন। ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ির মহিলারাই সবচেয়ে বেশি কাজ পাচ্ছেন। ডুয়ার্সের জাহানারা খাতুন, ঊষা কেরকেট্টারা জানান, এখন দিনমজুরির কাজ বন্ধ। পেট চালাতে ভরসা ১০০ দিনের কাজ। তাঁরা কাজ পেয়ে খুশি।

- Advertisement -

সরকারি পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, ধূপগুড়িতে ৩৫.১১ শতাংশ, জলপাইগুড়িতে ২৩.১৮ শতাংশ, মালবাজারে ৪০.৮৬ শতাংশ, মাটিয়ালি ব্লকে ৪৭.৪৫ শতাংশ, ময়নাগুড়িতে ৪৭.৩৯ শতাংশ, নাগরাকাটায় ৩৩.৮৪ শতাংশ, রাজগঞ্জ ব্লকে সবচেয়ে বেশি ৫৫.২০ শতাংশ করে মহিলাদের ১০০ দিনের কাজে অংশগ্রহণ করতে দেখা গিয়েছে। জেলায় সার্বিক মহিলাদের এই কাজে অংশগ্রহণ হয়েছে ৪০.৩৫ শতাংশ। জেলার ১০০ দিনের প্রকল্পের নোডাল আধিকারিক সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, রোজগারহীন মানুষ মুখিয়ে ছিলেন কবে কাজ পাবেন। হাতে তাঁদের টাকা ছিল না। এখন কোভিডের সমস্ত নির্দেশিকা মেনে কাজ শুরু করাতে মানুষ আতঙ্ক কাটিয়ে কাজে আসছেন। জেলা শাসক অভিষেক তিওয়ারি বলেন, জেলার ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটিতে আগামী কয়েকমাস ৭৫০ জন করে মোট ৬০ হাজার মানুষকে কাজ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।