ফের পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য

0
203
প্রতীকী ছবি।

বুল নমদাস, নয়ারহাট: মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের বৈরাগীরহাটের বালারহাটের পর উত্তর নলঙ্গিবাড়ি এলাকার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল।

জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় ইটভাটায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। রবিবার রাত ১টা নাগাদ ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর মৃতদেহ বাড়িতে আনার পথে চ্যাংরাবান্ধার নাকা চেকিংয়ে বর্তমানে আটকে রয়েছে। হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে মাথাভাঙ্গা-১ ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর।

এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য যোগেন বর্মন বলেন, এলাকার আরও কয়েকজনের সঙ্গে বিহারের ওই ইটভাটায় কাজ করতে গিয়েছিলেন বছর ৪৫ এর ওই ব্যক্তি। শনিবার রাতে তাঁর মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। মৃতের বাড়িতে দুই ছেলে ও স্ত্রী রয়েছেন। এক ছেলের বিয়ে হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই এলাকার শতাধিক ব্যক্তি শ্রমিকের কাজে বাইরে গিয়েছেন। অনেকেই বাড়িতেও এসেছেন। এরই মধ্যে এক শ্রমিকের মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাড়িতে আনার পথে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ পুলিশের নাকা চেকিংয়ে আটকে রয়েছে বলে শুনতে পেয়েছি।

ফাইল ছবি

স্থানীয় বিধায়ক হিতেন বর্মন বলেন, ‘ওই শ্রমিকের মৃতদেহ বাড়িতে আনার জন্য তাঁরা প্রশাসনিক মহলে যোগাযোগ রাখছেন।’  মাথাভাঙ্গা-১ বিডিও সম্বল ঝা জানান, মৃতদেহ আটকে থাকার খবর শুনেছি। মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। মৃতদেহ আটকে থাকার কথা জানিয়েছে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশও।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বিমল অধিকারী এই বিষয়ে বলেন, পূর্ণিয়া সদর হাসপাতালের ইশ্যু করা ডেথ সার্টিফিকেট থেকে জানা যাচ্ছে, হার্ট অ্যাটাকে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এতে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই মৃতদেহ সৎকার করা যেতে পারে।

শনিবার রাতেই বালারহাট এলাকায় বিহার ফেরত এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। কোচবিহারে নিয়ে গিয়ে মৃতের লালার নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছিল। যদিও সেই রিপোর্ট এখনও আসেনি। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই শ্রমিকের মৃতদেহ এলাকায় এসে পৌঁছায়নি। মৃতব্যক্তির সৎকার করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন তাঁর আত্মীয়-পরিজনরা। গোটা ঘটনার নজর রাখছে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ।