করোনা উপসর্গ নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু, আতঙ্ক

286
ফাইল ছবি

রায়গঞ্জ: করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। উত্তরপ্রদেশ থেকে গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার সময় ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তিনি মালদা জেলার কালিয়াচকের বাসিন্দা ছিলেন। মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিক উত্তরপ্রদেশের লখনৌতে একটি হ্যাচারিতে শ্রমিকের কাজে কর্মরত করতেন। দিন দশেক আগে প্রবল জ্বর নিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু সেখানে তাঁর ঠিকমত চিকিৎসা না হওয়ায় চলতি মাসের ১১ তারিখে অন্য ৪ জন শ্রমিক একটি গাড়ি ভাড়া করে জ্বরে আক্রান্ত শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

- Advertisement -

শনিবার ভোর ৫টা নাগাদ গাড়িতেই প্রবল শ্বাসকষ্ট হতে শুরু হয় তাঁর। এরপর রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে এসে পৌঁছতেই কর্তব্যরত ট্রাফিকের ওসি জামালুদ্দিন আহমেদ ও সিভিক ভলান্টিয়ার তন্ময় দাস রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে এসকর্ট করে নিয়ে যান তাঁকে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতেই কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করে।

হাসপাতাল ক্যাম্পাসে মৃত্যুর খবর চাউর হতেই করোনার আতঙ্ক দেখা দেয় ক্যাম্পাসে। ওই শ্রমিকের মৃতদেহ বর্তমানে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে পড়ে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্তব্যরত ময়নাতদন্তের চিকিৎসক বলেন, লালার নমুনা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করা হবে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে ভিন রাজ্য ফেরত ওই শ্রমিকের মৃতদেহ থেকে লালার নমুনা নেওয়া হয়েছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে অবস্থিত ট্রুন্যাট যন্ত্রে পরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট পজিটিভ আসলে সেই লালার নমুনা মালদা মেডিকেল কলেজের ভিআরডিএল ল্যাবে পাঠানো হবে।

মৃত শ্রমিকের সঙ্গে থাকা বাকি চার শ্রমিক জানান, নাগর ব্রিজ পার হওয়ার পরেই প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। শিলিগুড়ি মোড় এসে ট্রাফিক পুলিশদের বললে তাঁরা গাড়িকে মেডিকেল কলেজে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, লালার নমুনা পরীক্ষা না করে ময়নাতদন্ত হবে না। তাই হাসপাতলে বসে রয়েছেন।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনও রকম মন্তব্য করব না।