পেটের জ্বালায় ফের দিল্লি যাচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

531

গাজোল: লকডাউনে কাজ হারিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে ফেরেন। কিন্তু ঘরে ফিরেও একই অবস্থা। দীর্ঘদিন কাজ নেই। অর্থাভাবে সংসার টানতে পারছেন না। যদিও রাজ্য-কেন্দ্র উভয় সরকার পরিয়ায়ী শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। কার্যত বাধ্য হয়ে, সংসার-পরিবার সামলাতে ফের ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। রবিবার মালদার গাজোল থেকে বাসভর্তি শ্রমিক রওনা দিলেন দিল্লির পথে।

বামনগোলা ব্লকের পাকুয়া এলাকা থেকে এসেছিলেন মনোরঞ্জন ওঁরাও, রাজু রায়দের মত ১২ জনের পরিযায়ী দল। তারা জানান, করোনার ভয়ে দিল্লি থেকে ঘরে ফিরে ছিলেন। কিন্তু এলাকায় এসে কাজ জোটেনি। কেউ কেউ কাজ পেলেও ঠিকঠাক পারিশ্রমিক পান নি। পাঁচ দিন কাজ করে দু’দিনের পারিশ্রমিক পেয়েছেন। সেই অর্থে সংসার খরচ চালানো অসম্ভব। পরিবার-পরিজনদের অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটানো আর মেনে নিতে পারছিলেন না তারা। তাই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের পাড়ি দিচ্ছেন ভিন রাজ্যের পথে।

- Advertisement -

তারা আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ সারাদেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কিন্তু পেটের জ্বালা বড় জ্বালা! করোনার থেকেও ভয়ঙ্কর! পেটের জ্বালা মেটানোর জন্যই তারা যাচ্ছেন দিল্লি। সেখানে তারা নির্মাণ কাজের যোগ দেবেন। সেখানে কাজ করে দৈনিক মজুরি হিসেবে পান ৫০০-৭০০ টাকা। নিজেদের খরচ খরচা বাদ দিয়েও ভালো পরিমাণ টাকা প্রতি মাসে বাড়িতে পাঠাতে পারেন। আর তা দিয়েই চলে সংসার। তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য দিল্লি থেকে এসেছে ঝাঁ-চকচকে এসি লাক্সারি বাস। টিকিট কেটে এই বাসে ওঠার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। কিন্তু কোম্পানি নিজেদের স্বার্থেই তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য এই বাসের ব্যাবস্থা করেছে বলে তারা জানায়।

এই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের পাঠানোর দায়িত্বে রয়েছেন কালিয়াচকের ঠিকাদার কয়েশ শেখ। তিনিবলেন, মূলত নির্মাণ কাজে যোগ দেওয়ার জন্যই এই সমস্ত শ্রমিকেরা দিল্লি যাচ্ছেন। নির্মাণ কাজের বিভিন্ন বিভাগে যোগ দেবেন তারা। শুধুমাত্র যারা আগ্রহী তাদেরই পাঠানো হচ্ছে।