লকডাউন আতঙ্কে গুজরাট ছাড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

159

আহমেদাবাদ : একদিকে করোনার ঊর্ধ্বগতি। অন্যদিকে নতুন করে লকডাউনের আশঙ্কা। সবমিলিয়ে আরও একবার অনিশ্চয়তার কুয়াশা ঘিরে ধরেছে ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকা। এই অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে আবারও দেশের একাধিক প্রান্ত থেকে একটু একটু করে পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। করোনা সংক্রমণ ক্রমশ তেজি হওয়ায় গুজরাটের সুরাট এবং আহমেদাবাদ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা তাঁদের পরিবার-পরিজনের হাত ধরে ফের ঘরমুখো হতে শুরু করেছেন। যদিও গুজরাটের শ্রম দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যাঁরা ফিরছেন তাঁরা সংখ্যায় নগন্য। গুজরাটের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (শ্রম ও রোজগার) বিপুল মিত্র বলেন, বিরাট সংখ্যায় পরিযায়ীরা ফিরছেন এমন কোনও রিপোর্ট আমাদের কাছে নেই। তবে ওই পরিযায়ীদের যাতে কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয় তা সুনিশ্চিত করতে বলেছি জেলাগুলিকে।

তিনি জানিয়েছেন, যেহেতু লকডাউন হয়নি এবং ট্রেনও চলছে, তাই দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না মানুষের। গতবছর লকডাউনের কারণেই পরিযায়ীদের ঢল রাস্তায় নেমেছিল বলে তিনি মনে করেন। তবে পরিযায়ীরা আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, কিছু সময়ে পর হয়তো পরিবহণের সুবিধা পাওয়া যাবে না। আহমেদাবাদে যাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তাঁদের অধিকাংশই বিহার, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। শহরের প্রধান রেলস্টেশন কালুপুরে পরিযায়ীদের বিশাল অংশ ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরতে মরিয়া। সংরক্ষিত আসনের জন্য ওয়েটিং লিস্ট ক্রমশ লম্বা হচ্ছে।

- Advertisement -

সম্প্রতি গুজরাট হাইকোর্ট লকডাউন জারি করার পরামর্শ দিয়েছিল। তারপর থেকেই পরিযায়ীদের মধ্যে একপ্রকার আতঙ্ক কাজ করছে বলে। সুরাটে যাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তাঁদের বেশিরভাগ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। তাঁদের অনেকেই বাসে করে নিজেদের এলাকায় ফিরছেন। সুরাট লাক্সারি বাস অপারেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট দীনেশ আন্ধান বলেন, গতবছর লকডাউনের কারণে পরিযায়ী শ্রমিকরা সবথেকে ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। তাই তাঁরা এবার আতঙ্কের কারণে নিজেদের এলাকায় ফিরে যাচ্ছেন।