আবেদনের পরেও একশো দিনের কাজ পাচ্ছেন না পরিযায়ী শ্রমিকরা

339

হলদিবাড়ি: করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন বহু মানুষ। কাজ ছেড়ে অনেকেই ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরে কর্মহীন হয়ে বসে আছেন। তাঁদের আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিনগুজরান করতে হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে এসব মানুষদের ১০০ দিনের কাজ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কাজের আবেদন করেও কাজ মিলছে না। এমনই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন হলদিবাড়ি ব্লকের বক্সিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহিলা শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, বহু আবেদন নিবেদন করেও মিলছে না ১০০ দিনের কাজ। এই কাজের ক্ষেত্রে বহু দুর্নীতি হচ্ছে। তাই কাজের দাবিতে এদিন বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান ও বিডিওকে স্মারকলিপি দেন।

বিক্ষোভে শামিল মহিলা শ্রমিক শুকবালা বর্মন, সুশিলা রায়, প্রতিমা রায়ের অভিযোগ, চলতি মাসের শুরুর দিকে ১০০ দিনের কাজের আবেদন করে ৪(ক)ফর্ম ফিলাপ করা হয়েছে। কিন্ত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা আজও কাজ পাননি। তাঁদের দাবি, আইনে বলা রয়েছে কাজের জন্য আবেদন করেও কাজ না পেলে বেকার ভাতা পাওয়া যাবে। সেই নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের জন্য ভাতারও ব্যবস্থা করা হয়নি। তাই তারা এদিন বিডিও-র দ্বারস্থ হন। একই সুর তারামনি রায়,প্রতিমা বর্মন,সুমিত্রা রায়,মিনা রায়,সরোদিনী রায়ের গলাতে।

- Advertisement -

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা সুপারি বর্মন বলেন, আমরা দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাই। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে কোথাও কোন কাজ নেই। র‌্যাশনের চালে কোনমতে পেটের অন্নের সংস্থান হচ্ছে। কিন্তু তাতে কী আর জীবন ধারণ হয়! ওষুধ সহ সংসারের আরও কতো খরচ থাকে। তার জন্য প্রয়োজন অর্থের। এ কারণে স্থানীয় পঞ্চায়েত দপ্তরে গিয়ে কাজের আবেদন করি। কিন্তু তাতেও কাজ মিলছে না।

এসইউসিআই-এর হলদিবাড়ি লোকাল কমিটির সম্পাদক রুহুল আমিন সরকার বলেন, প্রকৃত দরিদ্র শ্রেণির শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছে না। অথচ অনেকেই কাজ না করে টাকা পেয়ে যাচ্ছে। পঞ্চায়েত সদস্য বা কাজের সুপারভাইজারের সঙ্গে রফা করে এসব হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেও শুধু শিলা বসিয়ে শ্রমিকদের বিলও তোলা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তোলেন তিনি।

হলদিবাড়ির বিডিও সঞ্জয় পন্ডিত জানান, আবেদনকারী সকলেই কাজ পাবেন। পর্যায়ক্রমে সকলেই কাজ দেওয়া হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে বাকিরাও কাজ পেয়ে যাবেন।